মাদকাসক্তি বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম গুরুতর জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে। কিশোর-তরুণ থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সী মানুষ মাদকের প্রভাবে শারীরিক, মানসিক ও আর্থিকভাবে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ছে। নিয়মিত মাদক সেবনের ফলে স্নায়ুতন্ত্র দুর্বল হয়ে যায়, স্মৃতিশক্তি ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা কমে যায় এবং হৃদরোগ, লিভার বিকল, কিডনি সমস্যা ও মানসিক ভারসাম্যহীনতার মতো জটিল রোগ দেখা দেয়। পাশাপাশি মাদকাসক্ত ব্যক্তি ধীরে ধীরে কর্মক্ষমতা হারায়, পড়াশোনা বা চাকরিতে অমনোযোগী হয়ে পড়ে এবং পরিবারের ওপর আর্থিক ও মানসিক চাপ সৃষ্টি করে। অনেক ক্ষেত্রে মাদক অপরাধ, সহিংসতা ও সামাজিক অস্থিরতা বৃদ্ধিরও একটি বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায়, যা সামগ্রিকভাবে সমাজের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলে।
মাদকের এই ভয়াবহ প্রভাব থেকে সমাজকে রক্ষা করতে হলে প্রতিরোধমূলক উদ্যোগ জোরদার করা অত্যন্ত জরুরি। পরিবারে সচেতনতা বৃদ্ধি, শিশু ও কিশোরদের নৈতিক শিক্ষা ও সুস্থ বিনোদনের সুযোগ নিশ্চিত করা মাদক থেকে দূরে রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম, কাউন্সিলিং এবং জীবনমুখী দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ চালু করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে মাদক পাচার ও অবৈধ ব্যবসার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের সংখ্যা ও মান বৃদ্ধি করা জরুরি। সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা গেলে মাদকাসক্তি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে এবং একটি সুস্থ, নিরাপদ ও উৎপাদনশীল সমাজ গড়ে তোলা সহজ হবে।
ডেস্ক রিপোর্ট