চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে টানা ভারী বৃষ্টিপাত এবং ভয়াবহ বন্যার কারণে এখন পর্যন্ত ৮২ হাজারেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। গত সপ্তাহে শহরের উপশহরগুলোতে প্রাণঘাতী বন্যায় বহু মানুষের মৃত্যু হওয়ার পর নতুন করে কয়েকটি এলাকায় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে।
বেইজিংয়ের বন্যা নিয়ন্ত্রণ সদর দপ্তরের উদ্ধৃতি দিয়ে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানায়, স্থানীয় সময় সোমবার রাত ৯টা পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলো থেকে হাজার হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
চীনা কর্তৃপক্ষ সবচেয়ে বেশি সতর্কতা জারি করেছে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় মিয়ুন অঞ্চলে, যেখানে গত সপ্তাহের বন্যায় ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে। একই সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ফাংশান, পশ্চিমাঞ্চলের মেন্টোগু এবং উত্তর হুয়াইরো এলাকাকেও উচ্চ ঝুঁকির আওতায় রাখা হয়েছে।
পৌর আবহাওয়া দপ্তর সোমবার দুপুর থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস দিয়ে ‘লাল সতর্কতা’ জারি করেছে, যা চার স্তরের সতর্কতা ব্যবস্থার মধ্যে সর্বোচ্চ।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে বেইজিংয়ের উত্তরের উপশহরগুলোতে বন্যায় অন্তত ৪৪ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং এখনও ৯ জন নিখোঁজ রয়েছেন। মিয়ুন এলাকার একটি বৃদ্ধনিবাসেই প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৩১ জন। এক স্থানীয় কর্মকর্তা দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রস্তুতির ঘাটির কথা স্বীকার করেছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর বাসিন্দারা জানিয়েছেন, স্রোতের তীব্রতা এতটাই ছিল যে, প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ না পেয়েই পানির তোড়ে ঘরবাড়ি ও গ্রাম বিধ্বস্ত হয়ে যায়।
উল্লেখ্য, গ্রীষ্মকালীন মৌসুমে চীনে প্রায়ই ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দেয়—কোথাও ভারী বৃষ্টি, আবার কোথাও চরম তাপদাহ।
বিশ্বে সবচেয়ে বেশি কার্বন নিঃসরণকারী দেশ হলেও, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় চীন নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে। দেশটি ২০৬০ সালের মধ্যে কার্বন নিরপেক্ষ হওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Kaler Diganta
বেইজিংয়ে ভারী বৃষ্টিপাত, ৮০ হাজারেরও বেশি মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে
নিউজটি শুনুন
- আপলোড সময় : ০৫-০৮-২০২৫ ০৮:৩৪:২২ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৫-০৮-২০২৫ ০৮:৩৪:২২ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ২ বার পঠিত
ছবিঃ সংগৃহীত
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
সর্বশেষ সংবাদ
এ জাতীয় আরো খবর
ডেস্ক রিপোর্ট