দিল্লিতে বিক্ষোভ, নির্বাচন কমিশনপ্রধানের পদত্যাগ দাবি
ভোটার তালিকা সংশোধনে অনিয়মের অভিযোগে বিক্ষোভ, দিল্লিতে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা
- আপলোড সময় : ১০-১০-২০২৬ ১০:৫৯:৩১ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ১০-১০-২০২৬ ১০:৫৯:৩১ পূর্বাহ্ন
- ৩ মিনিট পড়ার সময়
- ১৩ বার পঠিত
ছবি সংগৃহীত
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে তরুণদের বিক্ষোভ ঘিরে নয়াদিল্লির কেন্দ্রীয় এলাকায় কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য। বন্ধ রাখা হয়েছে ৫৭টি মেট্রো স্টেশন এবং স্থগিত করা হয়েছে বিক্ষোভস্থলের আশপাশের এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা।
শনিবার (১০ অক্টোবর) ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র নেতৃত্বে এ বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়। আয়োজকদের আশা, এতে হাজারো মানুষ অংশ নেবেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল ভারতীয় জনতা পার্টিকে (বিজেপি) সুবিধা দিতে ভোটার তালিকা সংশোধন করা হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করছেন বিক্ষোভকারীরা।
‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ স্লোগানে আয়োজিত এ কর্মসূচিকে গত সপ্তাহে শুরু হওয়া বিক্ষোভগুলোর মধ্যে বড় সমাবেশে পরিণত করার পরিকল্পনা রয়েছে আয়োজকদের। তাঁদের ঘোষণা অনুযায়ী, শনিবার সকাল ১০টায় নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে জড়ো হওয়ার কথা বিক্ষোভকারীদের।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় জ্ঞানেশ কুমারের অধীনস্থ কর্মকর্তাদের কেউ কেউ তাঁর সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন এবং দ্বিমত প্রকাশ করেছিলেন। ওই প্রক্রিয়ায় প্রায় ১৩ কোটি ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
বিরোধী দলগুলো দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, ক্ষমতাসীন বিজেপিকে নির্বাচনে সুবিধা দিতে ভোটার তালিকা পরিবর্তনের চেষ্টা চলছে। নতুন প্রতিবেদন প্রকাশের পর তারা আবারও এসব অভিযোগ সামনে এনেছে।
তবে এ বিষয়ে জ্ঞানেশ কুমার নিজে কোনো মন্তব্য করেননি। নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি অভিযোগ অস্বীকার করেছে। বিজেপির দাবি, নরেন্দ্র মোদির জনপ্রিয়তা এবং ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নির্বাচনে দলটির সাফল্যের অন্যতম কারণ। নির্বাচনে জয়ী হতে ব্যর্থ হয়ে বিরোধীরা জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ দলটির।
এদিকে বিরোধীদের ধারাবাহিক বিক্ষোভ মোদি সরকারের জন্য নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। কয়েক মাস আগে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় একই ধরনের বিক্ষোভের মুখে দেশটির শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। ২০২৭ সালের শুরু থেকে উত্তর প্রদেশসহ ভারতের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। দেশটির সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য উত্তর প্রদেশ বর্তমানে বিজেপি-শাসিত।
এর আগে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দিল্লি পুলিশ জানায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন না করা এবং আগের বিক্ষোভের সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের কারণে কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া হয়নি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব উল্লেখ করে পুলিশ জানায়, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে পুলিশের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে সংগঠনটির নেতারা জানিয়েছেন, বিক্ষোভ করা তাঁদের মৌলিক অধিকার। অনুমতি না পেলেও তাঁরা কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।
বিক্ষোভকারীদের দিল্লিতে প্রবেশ এবং যন্তর মন্তরসংলগ্ন বাণিজ্যিক এলাকায় জড়ো হওয়া ঠেকাতে শুক্রবার শহরগামী কয়েকটি দূরপাল্লার ট্রেন বাতিল করা হয়। একই দিন রাত থেকে ৫৭টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়। বার্তা সংস্থা এএনআই সরকারি আদেশের বরাতে জানিয়েছে, বিক্ষোভস্থলের চার কিলোমিটার ব্যাসার্ধের এলাকায় শুক্রবার রাত থেকে শনিবার রাত পর্যন্ত মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।