মৃত্যুদণ্ডের সরাসরি সম্প্রচারে যুক্তরাষ্ট্রের নৈতিকতা প্রশ্নে বির্তক
নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড সম্প্রচারের পরিকল্পনার সমালোচনা করে আন্তর্জাতিক নেতাদের প্রতিবাদ জানানোর আহ্বান পল ডেইলির
- আপলোড সময় : ০৯-১০-২০২৬ ০৯:৪৩:৪৫ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৯-১০-২০২৬ ১০:০২:০২ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ২১ বার পঠিত
ছবি—সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে সাবেক সেনা কর্মকর্তা নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে কার্যকর করার দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন অস্ট্রেলীয় কলাম লেখক পল ডেইলি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানে প্রকাশিত এক নিবন্ধে তিনি এই উদ্যোগকে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও নৈতিক অবক্ষয়ের প্রতিফলন হিসেবে তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, মৃত্যুদণ্ডকে সরাসরি সম্প্রচারের মাধ্যমে প্রদর্শন করা হলে রাষ্ট্রীয়ভাবে মানুষের জীবন কেড়ে নেওয়ার ঘটনাকে বিনোদনের উপকরণে পরিণত করা হতে পারে।
নিবন্ধে পল ডেইলি লিখেছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় প্রশাসনের নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের পরও যুক্তরাষ্ট্রের নতুন এই উদ্যোগ তাঁকে বিস্মিত করেছে। তাঁর অভিযোগ, মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের ঘোষিত পরিকল্পনা মানবিক শালীনতা ও নৈতিকতার প্রশ্নে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি করেছে। তাঁর মতে, রাজনৈতিক ও সামরিক কর্মকাণ্ড নিয়ে বিতর্কের পাশাপাশি মৃত্যুদণ্ডকে জনসমক্ষে বিনোদন হিসেবে উপস্থাপনের বিষয়টিও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।
নিদাল হাসান যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর সাবেক মনোরোগ বিশেষজ্ঞ। ২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সেনাঘাঁটিতে গুলিতে ১৩ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় তিনি দোষী সাব্যস্ত হন। নিবন্ধে বলা হয়েছে, তাঁর মৃত্যুদণ্ড ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে কার্যকর করার দৃশ্য ৩ ডিসেম্বর সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনা রয়েছে। এই পরিকল্পনার সমালোচনা করে লেখক প্রশ্ন তুলেছেন, গুরুতর অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তির ক্ষেত্রেও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্যকে বিনোদনে রূপ দেওয়া কতটা নৈতিক।
পল ডেইলির মতে, যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা নতুন নয়। তবে তা সরাসরি সম্প্রচারের উদ্যোগ শাস্তি কার্যকরের বিষয়টিকে জনসমক্ষে প্রদর্শনীতে পরিণত করতে পারে। তাঁর আশঙ্কা, এ ধরনের সম্প্রচার ভবিষ্যতে আরও নিষ্ঠুর দৃশ্য দেখার চাহিদা তৈরি করতে পারে এবং মৃত্যুদণ্ডকে ঘিরে জনমত ও রাষ্ট্রীয় নীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
নিবন্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি ও রাজনৈতিক আচরণেরও সমালোচনা করেছেন লেখক। তাঁর মতে, যুক্তরাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থায় সামরিকীকরণ, রাজনৈতিক বিতর্ক এবং নৈতিকতার প্রশ্ন নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনা নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তিনি মনে করেন, এমন উদ্যোগ রাষ্ট্রের ক্ষমতা প্রয়োগ এবং মানবিক মূল্যবোধের সীমা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনার প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়ে দিয়েছে।
পল ডেইলি অস্ট্রেলিয়া ও অন্যান্য দেশের রাজনৈতিক নেতাদের এ পরিকল্পনার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ার সরকারের কাছে তিনি নিঃশর্তভাবে এর নিন্দা জানানোর প্রত্যাশা করেছেন। তাঁর যুক্তি, অস্ট্রেলিয়ার কেন্দ্রীয় সরকারগুলো দীর্ঘদিন ধরে মৃত্যুদণ্ডের বিরোধিতা করে আসছে। তাই মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনার বিরুদ্ধেও দেশটির রাজনৈতিক নেতৃত্বের স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া উচিত।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।