তেল গ্যাস আমদানিতে ৩৩০ কোটি ডলারের বৈদেশিক ঋণ নিচ্ছে সরকার
বিদ্যুৎ বিতরণব্যবস্থার উন্নয়ন ও জ্বালানি তেল এলএনজি আমদানিতে ব্যয় হবে এ অর্থ
- আপলোড সময় : ০৮-১০-২০২৬ ০৫:৫০:০০ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৮-১০-২০২৬ ০৫:৫০:০০ অপরাহ্ন
- ৩ মিনিট পড়ার সময়
- ২৬ বার পঠিত
ছবি—সংগৃহীত
বিদ্যুৎ বিতরণব্যবস্থা আধুনিকায়ন এবং জ্বালানি তেল ও এলএনজি আমদানি অব্যাহত রাখতে কঠিন শর্তের এ ঋণ অনুমোদন করেছে সরকার।
বিদ্যুৎ বিতরণব্যবস্থার উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক বাজার থেকে জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এলএনজি আমদানি অব্যাহত রাখতে মোট ৩৩০ কোটি ডলারের বৈদেশিক ঋণ প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকার। প্রতি ডলার ১২৩ টাকা হিসাবে বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৪০ হাজার ৫৯০ কোটি টাকা। এর মধ্যে বিদ্যুৎ খাতের একটি প্রকল্পে ২০ কোটি ডলার এবং জ্বালানি আমদানিতে ৩১০ কোটি ডলার ব্যয় হবে।
বুধবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনমনীয় ঋণ সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির ৪৬তম সভায় এসব ঋণ প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।
বিদ্যুৎ বিভাগের অধীন বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের বাস্তবায়নাধীন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক এনহ্যান্সমেন্ট প্রজেক্টের জন্য এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক এডিবি থেকে ২০ কোটি ডলার নেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এ ঋণের সুদের হার সিকিউর্ড ওভারনাইট ফাইন্যান্সিং রেট এসওএফআরের সঙ্গে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ স্প্রেড যুক্ত করে নির্ধারণ করা হয়েছে। ২৫ বছর মেয়াদি ঋণটির গ্রেস পিরিয়ড পাঁচ বছর। এর সঙ্গে শূন্য দশমিক ১০ শতাংশ ম্যাচিউরিটি প্রিমিয়াম এবং শূন্য দশমিক ১৫ শতাংশ কমিটমেন্ট চার্জ রয়েছে।
ঋণটির গ্র্যান্ট এলিমেন্ট ৫ দশমিক ৭০ শতাংশ। গ্র্যান্ট এলিমেন্ট ২৫ শতাংশের নিচে হওয়ায় এটি অনমনীয় বা কঠিন শর্তের ঋণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এই অর্থ দিয়ে ঢাকা শহরের আশপাশের ১৩টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থার সক্ষমতা ও স্থিতিশীলতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পের আওতায় নতুন উপকেন্দ্র নির্মাণ ও বিদ্যমান উপকেন্দ্র সম্প্রসারণ, ভূগর্ভস্থ ও ওপরের বিদ্যুৎ লাইন নির্মাণ, ইনসুলেটেড কন্ডাক্টর স্থাপন এবং ডিজিটাল তদারকি ও ফল্ট লোকেটর প্রযুক্তি যুক্ত করা হবে। এর মাধ্যমে কারিগরি লোকসান কমানোর পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবরাহের মান ও নিরবচ্ছিন্নতা বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে। প্রকল্পটি ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০৩১ সালের জুলাইয়ের মধ্যে বাস্তবায়নের কথা রয়েছে।
অন্যদিকে, ২০২৬ ২৭ অর্থবছরে জ্বালানি তেল ও এলএনজি আমদানির জন্য সৌদি আরবের জেদ্দাভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ট্রেড ফাইন্যান্স করপোরেশন আইটিএফসি থেকে ৩১০ কোটি ডলারের স্বল্পমেয়াদি অনমনীয় ঋণের ভূতাপেক্ষ অনুমোদন দিয়েছে কমিটি।
এই অর্থের মধ্যে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন বিপিসির জ্বালানি তেল আমদানিতে ২৫০ কোটি ডলার এবং বাংলাদেশ তেল গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশন পেট্রোবাংলার এলএনজি আমদানিতে ৬০ কোটি ডলার ব্যয় হবে। ছয় মাস মেয়াদি এ ঋণের সুদের হার ছয় মাসের টার্ম এসওএফআরের সঙ্গে ১ দশমিক ৭০ শতাংশ যোগ করে নির্ধারণ করা হয়েছে। আগের বছরের বার্ষিক হারের তুলনায় এই হার কিছুটা কম।
আইটিএফসি নিজস্ব উৎস থেকে ৬০ কোটি ডলার দেবে। বাকি ২৫০ কোটি ডলার দুই বা ততোধিক সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের যৌথ অর্থায়নের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হবে। দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে জরুরি ভিত্তিতে এই ঋণ অনুমোদন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
ইআরডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনমনীয় বৈদেশিক ঋণ অনুমোদনের ক্ষেত্রে সরকারের নির্ধারিত নির্দেশিকা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, এসব ঋণের দায় পরিশোধে ব্যয় সংশ্লিষ্ট অর্থবছরের রপ্তানি আয়ের ১০ শতাংশ বা রাজস্ব আয়ের ১৫ শতাংশের বেশি হতে পারবে না। দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, নিজস্ব আয় থেকে ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা এবং জাতীয় অগ্রাধিকার বিবেচনা করেই ঋণগুলো অনুমোদন করা হয়েছে।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।