নবজাতক শিশুর যত্ন নেওয়ার ব্যস্ততার মধ্যে অনেক মা নিজেদের বিশ্রামের বিষয়টি উপেক্ষা করেন। তবে নবজাতক যখন ঘুমায় তখন মায়েরও সুযোগ থাকলে ঘুমানো বা বিশ্রাম নেওয়া উচিত। এটি শুধু ক্লান্তি কমায় না মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
শিশুর জন্মের পর প্রথম কয়েক সপ্তাহ ও মাসে মায়ের শরীরকে প্রসবজনিত ধকল থেকে পুনরুদ্ধার হতে সময় লাগে। এ সময়ে পর্যাপ্ত বিশ্রাম না পেলে দুর্বলতা, অবসাদ, মনোযোগের ঘাটতি এবং নানা স্বাস্থ্যগত জটিলতা দেখা দিতে পারে।
নবজাতক সাধারণত দিনে ও রাতে মিলিয়ে দীর্ঘ সময় ঘুমায়, তবে তাদের ঘুমের সময় নির্দিষ্ট থাকে না। ফলে অনেক মা রাতের ঘুমে ঘাটতির শিকার হন। শিশুর ঘুমের সময় গৃহস্থালির সব কাজ শেষ করার চেষ্টা না করে সুযোগমতো বিশ্রাম নেওয়া অধিক উপকারী হতে পারে।
পর্যাপ্ত বিশ্রাম মায়ের মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে এবং প্রসবোত্তর বিষণ্নতা বা পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশনের ঝুঁকি হ্রাস করতে ভূমিকা রাখতে পারে। ঘুমের ঘাটতি দীর্ঘমেয়াদে মেজাজের পরিবর্তন, উদ্বেগ এবং শারীরিক ক্লান্তি বাড়িয়ে দিতে পারে।
নবজাতকের যত্ন নেওয়ার ক্ষেত্রে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ। পরিবারের সদস্যরা যদি কিছু দায়িত্ব ভাগ করে নেন, তাহলে মা বিশ্রামের জন্য প্রয়োজনীয় সময় পেতে পারেন।
এ ছাড়া বিশ্রাম নেওয়ার সময় মোবাইল ফোন, টেলিভিশন বা অন্যান্য স্ক্রিন ব্যবহারের পরিবর্তে প্রকৃত ঘুম বা আরামদায়ক বিশ্রামকে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এতে শরীর ও মস্তিষ্ক উভয়ই পুনরুজ্জীবিত হওয়ার সুযোগ পায়।
নবজাতকের যত্ন নেওয়ার জন্য মায়ের সুস্থ ও সতেজ থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই শিশুর ঘুমের সময় সুযোগ পেলে মায়েরও বিশ্রাম নেওয়া পরিবার ও শিশুর সার্বিক কল্যাণের জন্য উপকারী হতে পারে।