অনেক পরিবারে নিয়মিত ঝাল খাবার খাওয়ার প্রচলন থাকলেও শিশুদের ক্ষেত্রে এ বিষয়ে সতর্ক থাকা উচিত। শিশুকে ঝাল খাবারে অভ্যস্ত করতে হলে ধীরে ধীরে তা খাদ্যতালিকায় যুক্ত করা উচিত, হঠাৎ করে বেশি ঝাল খাবার দেওয়া ঠিক নয়।
শিশুর পরিপাকতন্ত্র বয়সের সঙ্গে ধীরে ধীরে পরিপক্ব হয়। তাই প্রাপ্তবয়স্কদের মতো ঝাল বা মসলাযুক্ত খাবার ছোট শিশুদের জন্য শুরু থেকেই উপযোগী নাও হতে পারে। অতিরিক্ত ঝাল খাবার খেলে পেটে অস্বস্তি বা খাবারের প্রতি অনীহা দেখা দিতে পারে।
শিশুর বয়স ও খাদ্যাভ্যাস বিবেচনায় নিয়ে খুব অল্প পরিমাণে মসলা বা ঝালের স্বাদ পরিচয় করানো যেতে পারে। শিশুর শরীর কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে তা পর্যবেক্ষণ করাও গুরুত্বপূর্ণ।
অনেক শিশু পরিবারের অন্য সদস্যদের খাবার দেখে আগ্রহ প্রকাশ করে। এ সময় তাদেরকে অত্যধিক ঝাল খাবার না দিয়ে তুলনামূলক হালকা ঝাল স্বাদের খাবার পরিবেশন করা ভালো। এতে তারা ধীরে ধীরে নতুন স্বাদের সঙ্গে পরিচিত হতে পারে।
শিশুর খাদ্যতালিকায় বৈচিত্র্য আনা প্রয়োজন হলেও তা ধাপে ধাপে হওয়া উচিত। শিশুর পছন্দ-অপছন্দকে গুরুত্ব দিয়ে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলার চেষ্টা করতে হবে।
এ ছাড়া কোনো খাবার খাওয়ার পর শিশুর অ্যালার্জি, পেটের সমস্যা বা অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। কারণ প্রতিটি শিশুর শারীরিক সহনশীলতা এক নয়।
শিশুকে ঝাল খাবারে অভ্যস্ত করার ক্ষেত্রে ধৈর্য ও পর্যবেক্ষণ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ধীরে ধীরে স্বাদের পরিবর্তনের মাধ্যমে শিশুর জন্য স্বাস্থ্যকর ও সুষম খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা সম্ভব।