সারাদেশের আইনজীবীদের পেশাগত দক্ষতা ও নৈতিকতার মানোন্নয়নে দেশের প্রতিটি বিভাগে পর্যায়ক্রমে উচ্চতর প্রশিক্ষণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ২০২৬ সালের মধ্যেই চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগে এ কার্যক্রম শুরু হবে।
রোববার সকালে বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল ও বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মোহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস কাজলের সঙ্গে জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তর (ইউএনওডিসি) এবং জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) প্রতিনিধিদলের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বৈঠকে ইউএনওডিসির বাংলাদেশ কার্যালয়ের প্রধান শাহ মোহাম্মদ নাহীয়ান এবং ইউএনডিপির আইনের শাসন, বিচার ও নিরাপত্তাবিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা রোমানা শোয়াইগার অংশ নেন। তারা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় ও ভবিষ্যৎ সহযোগিতার ক্ষেত্র নিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
বৈঠকে সারাদেশের আইনজীবীদের নৈতিকতা বিষয়ক উচ্চতর প্রশিক্ষণের আওতায় আনার বিষয়ে ঐকমত্য হয়। প্রতিটি বিভাগে পর্যায়ক্রমে এ প্রশিক্ষণ আয়োজন করা হবে। সংশ্লিষ্ট বিভাগের অধীন জেলা বার ও চৌকি বারের আইনজীবীরা প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে এতে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আইনজীবী ও আইন কর্মকর্তাদের পেশাগত সততা, স্বাধীনতা, মানবিক মর্যাদা, মানবাধিকার এবং আইনের শাসনের প্রতি অঙ্গীকার আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। পাশাপাশি বিচারব্যবস্থায় পেশাগত নৈতিকতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়েও প্রশিক্ষণে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
এর আগে জাতিসংঘ ও ইউএনডিপির সহযোগিতায় অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের ডেপুটি ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলদের জন্য প্রসিকিউটরদের পেশাগত নৈতিকতা বিষয়ে দুই দিনব্যাপী উচ্চতর প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। ১৮ ও ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত ওই কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় এবার দেশের সব বিভাগের আইনজীবীদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে বৈঠকে আগামী ৯ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস পালনের বিষয়েও আলোচনা হয়। ইউএনডিপি, আইন মন্ত্রণালয় ও অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের সহযোগিতায় দিবসটি জাঁকজমকপূর্ণভাবে পালনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের মাধ্যমে জেলা ও চৌকি বার পর্যায়ের আইনজীবীদের আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় পরিচালিত উচ্চতর পেশাগত নৈতিকতা প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।