ইসরায়েলকে ২৮০ কোটি ডলারের অস্ত্র দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
প্রস্তাবিত প্যাকেজে দুই হাজার পাউন্ডের এমকে-৮৪ ও বিএলইউ-১১৭ বোমার পাশাপাশি রয়েছে পেনিট্রেটর ওয়ারহেড
নিউজটি শুনুন
- আপলোড সময় : ১৭-০৯-২০২৬ ০২:০৭:৩০ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ১৭-০৯-২০২৬ ০২:০৭:৩০ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ২৫ বার পঠিত
ছবি সংগৃহিত
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইসরায়েলের কাছে প্রায় ২৮০ কোটি ডলার মূল্যের অস্ত্র ও গোলাবারুদ বিক্রির পরিকল্পনা করছে। প্রস্তাবিত এই প্যাকেজে দুই হাজার পাউন্ড ওজনের ৪০ হাজার বোমা রয়েছে বলে অস্ত্র বিক্রির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন। বড় ধরনের অস্ত্র বিক্রির ক্ষেত্রে মার্কিন কংগ্রেসের সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলোকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
ওই কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, প্যাকেজে ২০ হাজার এমকে-৮৪ এবং ২০ হাজার বিএলইউ-১১৭ বোমা রয়েছে। এ ছাড়া আরও ২০ হাজার আই-২০০০ পেনিট্রেটর ওয়ারহেড থাকার কথা জানিয়েছে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই মার্কিন কর্মকর্তা এসব তথ্য দিয়েছেন।
প্রস্তাবিত অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে জানতে চাইলে হোয়াইট হাউসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেন, বিদেশে অস্ত্র বিক্রির সব প্রস্তাবই নির্ধারিত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগিয়ে নেওয়া হয়। তবে চূড়ান্ত না হওয়া অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে তারা মন্তব্য করেন না। ইসরায়েলি দূতাবাসের কাছেও মন্তব্য চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ইসরায়েল গাজা ও লেবাননে দুই হাজার পাউন্ড ওজনের বোমা ব্যবহার করেছে। এসব বোমা ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ব্যবহারের ক্ষেত্রে বেসামরিক মানুষের ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি নিয়ে মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, শক্তিশালী এসব বোমা পুরো ভবন ধ্বংস করতে সক্ষম হওয়ায় জনবহুল এলাকায় এর ব্যবহার বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ঘটাতে পারে।
২০২৪ সালে বেসামরিক হতাহতের আশঙ্কায় তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসন ইসরায়েলের জন্য দুই হাজার পাউন্ডের বোমার একটি চালান সাময়িকভাবে আটকে দিয়েছিল। তবে ২০২৫ সালের শুরুতে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ওই ধরনের বোমার সরবরাহ আবার শুরু হয়।
দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে সাবেক এক মার্কিন সেনা বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়করণ বিশেষজ্ঞের বক্তব্যও তুলে ধরা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো ভবনের ভেতরে হিজবুল্লাহ বা অন্য কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্য থাকার সন্দেহ থাকলে ইসরায়েল এমকে-৮৪ ধরনের বোমা ব্যবহার করে পুরো ভবন ধ্বংস করতে পারে।
প্রস্তাবিত অস্ত্র বিক্রি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ব্রায়ান ফিনুকেন। ওয়াশিংটন পোস্টকে তিনি বলেন, গাজা এবং দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের বিমান হামলার ধরন বিবেচনায় ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এসব অস্ত্র কীভাবে ব্যবহার করা হবে, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। পাশাপাশি হামলার আগে কোনো স্থাপনাকে বৈধ সামরিক লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে ইসরায়েল বলে আসছে, তারা ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় না। দেশটির দাবি, সন্ত্রাসী হুমকি মোকাবিলা এবং সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করাই তাদের হামলার উদ্দেশ্য।
নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-১৩
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
সর্বশেষ সংবাদ
এ জাতীয় আরো খবর