ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ (শরৎকাল) , ৬ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
সংবাদ শিরোনাম :
স্বেচ্ছায় ইসলাম গ্রহণের কথা আদালতে স্পষ্ট করলেন ভারতের আয়ুষ মালিক দেশের তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘উদ্যোগ’ ঢাকায় তিন মেট্রোরেল প্রকল্পে আড়াই লাখ কোটি টাকা অনুমোদন লিথুয়ানিয়ার আকাশসীমায় ঢুকে পড়া ড্রোন ভূপাতিত করল ন্যাটোর যুদ্ধবিমান ময়মনসিংহ মেডিকেলে অগ্নিকাণ্ডের পর মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশা টেকসই অবকাঠামো উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান মন্ত্রীর দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মেটাতে আরও ৬ কার্গো এলএনজি আমদানি পশ্চিমবঙ্গে ২৫২টি মাদ্রাসা বন্ধের নোটিশ: আরও ১০০ প্রতিষ্ঠানকে নোটিশ পদ্মা জেনারেলে শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ: ডাক্তারহীন এনআইসিইউ বাগেরহাটের রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের একটি ইউনিটের উৎপাদন বন্ধ নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য বেচাকেনার অভিযোগে কেরানীগঞ্জে গ্রেপ্তার ১ ভারতকে পেছনে রেখে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যে যুক্তরাষ্ট্র তরুণ আলেম মো. জুনায়েদ আল হাবিব ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে ইন্তেকাল করেছেন সম্পত্তি হস্তান্তর বিল-২০২৬ কুরআন ও সুন্নাহর পরিপন্থী দাবি হেফাজতের আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ঢুকে পড়েছে ৫০০ ইসরায়েলি কেশমের কাছে ইরানি জাহাজে মার্কিন হামলার দাবি, নিহত ১ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন নিয়ে রিট খারিজ নবম পে স্কেলে বেতন পেতে তথ্য দিতে হবে আইবাসে চীনে বাড়ছে পেট্রোল ডিজেলের দাম সরকারি দামের চেয়ে বেশি দামে ইউরিয়া সার বিক্রির অভিযোগ

চাঁদের কক্ষপথ ঘিরেও সামরিক প্রস্তুতি বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

পৃথিবীর কক্ষপথের বাইরে চাঁদের আশপাশের মহাকাশকেও সম্ভাব্য সামরিক এলাকা হিসেবে দেখছে মার্কিন স্পেস ফোর্স
নিউজটি শুনুন
  • আপলোড সময় : ১৭-০৯-২০২৬ ০২:০৩:১০ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৭-০৯-২০২৬ ০২:০৩:১০ অপরাহ্ন
  • ৩ মিনিট পড়ার সময়
  • ৩৭ বার পঠিত
চাঁদের কক্ষপথ ঘিরেও সামরিক প্রস্তুতি বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ছবি সংগৃহিত
পৃথিবীর কক্ষপথের পাশাপাশি চাঁদের আশপাশের মহাকাশেও সম্ভাব্য সংঘাতের জন্য সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতের সংঘাতের পরিধি মহাকাশের আরও গভীরে বিস্তৃত হতে পারে। এ কারণে চাঁদের কক্ষপথসংলগ্ন এলাকাতেও অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা গড়ে তোলার কথা ভাবছে মার্কিন স্পেস ফোর্স। ওয়াশিংটনের বাইরে বুধবার অনুষ্ঠিত বিমান, মহাকাশ ও সাইবারবিষয়ক এক সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন বলেন, মার্কিন সামরিক বাহিনীকে এমন পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে, যেখানে সমুদ্রের তলদেশ থেকে শুরু করে চাঁদের আশপাশের মহাকাশ পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় সামরিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে হতে পারে। তাঁর বক্তব্যে ভবিষ্যৎ যুদ্ধক্ষেত্রের পরিধি আরও বিস্তৃত হওয়ার বিষয়টি উঠে আসে। একই সম্মেলনে স্পেস ফোর্সের কমব্যাট ফোর্সেস কমান্ডের প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল গ্রেগরি গ্যাগনন জানান, মহাকাশ ও চাঁদের আশপাশের এলাকায় অভিযান পরিচালনার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে স্পেস ফোর্স। তাঁর মতে, মানবজাতি মহাকাশের আরও গভীরে প্রবেশ করছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষায় সেই নতুন পরিবেশে সামরিকভাবে প্রস্তুত থাকা প্রয়োজন। এর কয়েক দিন আগে যুক্তরাষ্ট্র প্রথমবারের মতো মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের কথা প্রকাশ্যে জানায়। বিমানবাহিনীর মন্ত্রী ট্রয় মেইংক জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র কক্ষপথে থাকা মহাকাশ নিয়ন্ত্রণের অস্ত্র মোতায়েন করেছে। তবে অস্ত্রটির ধরন, অবস্থান কিংবা ব্যবহারের পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি। মার্কিন কর্মকর্তাদের বক্তব্যে চীনের কথাও উঠে এসেছে। গ্যাগনন বলেন, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো মনে করছে, সম্ভাব্য প্রতিপক্ষরা ভবিষ্যতে সংঘাতকে মহাকাশ পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারে। চীন মহাকাশব্যবস্থার বিভিন্ন ক্ষেত্রে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। ২০২৪ সালে চীন মহাকাশসংক্রান্ত সংকট মোকাবিলায় সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে নিজস্ব সামরিক মহাকাশ বাহিনী গঠন করে। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন মহাকাশের শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের পক্ষে বেইজিংয়ের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি মহাকাশে অস্ত্রায়ন, সামরিকীকরণ ও অস্ত্র প্রতিযোগিতার বিরোধিতা করে যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক প্রস্তুতি বাড়ানো বন্ধ করার আহ্বান জানান। এদিকে চাঁদের আশপাশে সামরিক অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা তৈরির পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক মহাকাশ আইনের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ১৯৬৭ সালের মহাকাশ চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন উভয়ই স্বাক্ষরকারী। ওই চুক্তিতে চাঁদসহ মহাজাগতিক বস্তু শান্তিপূর্ণ কাজে ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে এবং মহাকাশে পারমাণবিক ও অন্যান্য গণবিধ্বংসী অস্ত্র মোতায়েন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে প্রচলিত সব ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের ওপর একইভাবে সরাসরি নিষেধাজ্ঞা নেই। যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশ এর আগে পৃথিবীর কক্ষপথে কৃত্রিম উপগ্রহ ধ্বংসের সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে। এসব কার্যক্রম মূলত পৃথিবী থেকে পরিচালিত হয়েছে। নতুন করে আলোচনার বিষয় হলো, মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা এখন চাঁদের আশপাশের মহাকাশকেও সম্ভাব্য সামরিক কর্মকাণ্ডের এলাকা হিসেবে বিবেচনা করছেন। মহাকাশে সামরিক প্রতিযোগিতা ঠেকাতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে। যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান মহাকাশে পারমাণবিক ও অন্যান্য গণবিধ্বংসী অস্ত্র তৈরি ও মোতায়েন ঠেকাতে জাতিসংঘে একটি যৌথ প্রস্তাব দিয়েছিল। রাশিয়া তাতে ভেটো দেয়। পরে রাশিয়ার পক্ষ থেকেও মহাকাশে সব ধরনের অস্ত্র স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করার একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়, তবে সেটিও পাস হয়নি। সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি স্পেস ফোর্সের জনবলও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। গ্যাগননের তথ্য অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছরে বাহিনীটির সদস্যসংখ্যা দ্বিগুণ করে প্রায় ২৫ হাজারে নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। নতুন সদস্যদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ কমব্যাট ফোর্সেস কমান্ডে যুক্ত করা হবে। তবে মহাকাশে সামরিক কর্মকাণ্ড বাড়ানোর ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক চুক্তি ও দায়িত্বশীলতার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। ১৯৬৭ সালের মহাকাশ চুক্তি সম্পর্কে জানতে চাইলে গ্যাগনন বলেন, স্পেস ফোর্স মহাকাশের সব এলাকায় নিরাপদ ও দায়িত্বশীলভাবে অভিযান পরিচালনা করবে। তবে মহাকাশে গুলি, ক্ষেপণাস্ত্র বা অন্য নিক্ষেপযোগ্য অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়ে বাহিনীটির নির্দিষ্ট নীতি কী, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাননি।

নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-১৩

মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।