সাড়ে চার বছর ধরে চলা রাশিয়া ও ইউক্রেনের যুদ্ধের অবসানে শান্তি আলোচনায় বসতে রাশিয়া প্রস্তুত বলে দাবি করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
সোমবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে বৈঠকের পর তারা তাকে রাশিয়ার আলোচনায় বসার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন।
জেলেনস্কি বলেন, শীত শুরুর আগে সংঘাতের উত্তেজনা কমাতে যুক্তরাষ্ট্র উদ্যোগ নিচ্ছে। আলোচনায় জ্বালানি অবকাঠামো, শস্য পরিবহন এবং তেল ও গ্যাস রপ্তানির মতো বিষয় উঠে এসেছে। শীতের আগে বা শীতকাল চলাকালে এমন কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা চলছে, যা দুই দেশকে শান্তি আলোচনার কাছাকাছি নিয়ে যেতে পারে।
এর আগে ৫ সেপ্টেম্বর মস্কোয় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন উইটকফ ও কুশনার। পরদিন তারা কিয়েভে গিয়ে জেলেনস্কির সঙ্গে আলোচনা করেন।
আলোচনায় ইউক্রেনের জন্য সম্ভাব্য একটি ‘উইন্টার প্যাকেজ’-এর বিষয়ও এসেছে। এতে বিমান প্রতিরক্ষা ও জ্বালানি খাতে সহায়তা থাকতে পারে বলে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি জেলেনস্কি।
রাশিয়ার কথিত আলোচনার আগ্রহ নিয়ে অবশ্য সন্দেহ প্রকাশ করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট। তার মতে, যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়ার সামরিক তৎপরতা এবং সাম্প্রতিক হামলা এখনো সমঝোতার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে না। শীতের আগে ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোতে নতুন হামলার আশঙ্কাও রয়েছে বলে জানান তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে সরাসরি বা ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের সম্ভাবনাও রয়েছে। সম্ভাব্য বৈঠকের স্থান হিসেবে তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সুইজারল্যান্ডের নাম আলোচনায় এসেছে। তবে ভূখণ্ড, নিরাপত্তা এবং যুদ্ধবিরতির শর্ত নিয়ে মতবিরোধ এখনো বড় বাধা হয়ে আছে।
এদিকে কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই ৮ সেপ্টেম্বর তিন দিনের বিরতির পর কিয়েভে আবারও রুশ হামলা ও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। ফলে শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হলেও যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি এখনো উত্তেজনাপূর্ণ।