ইরানের সিরিকে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে ‘প্রযুক্তিগত ভুল’ নয়, বরং যুদ্ধাপরাধ হিসেবে উল্লেখ করেছেন দেশটির সংসদের ডেপুটি স্পিকার আলী নিকজাদ। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন কর্মকর্তাদের দ্রুত অঞ্চলটি ছেড়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সংসদের এক ভার্চুয়াল অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব মন্তব্য করেন নিকজাদ।
তিনি দাবি করেন, হামলায় ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রের ধরন এবং টেলিযোগাযোগ টাওয়ার থেকে বিয়ের অনুষ্ঠানের দূরত্ব বিশ্লেষণ করলে এটি দুর্ঘটনাজনিত বা প্রযুক্তিগত ভুল ছিল বলে মনে হয় না। তার মতে, উন্নত প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেও অনুষ্ঠানের কাছাকাছি প্রায় ৩০০ মিটার দূরে আঘাত হানা হয়েছে।
নিকজাদ বলেন, হামলাটি যদি প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণেও হয়ে থাকে, তাহলেও সেটি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতার দুর্বলতার প্রমাণ। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ‘আমেরিকার শ্রেষ্ঠত্ব ফিরিয়ে আনা’র বক্তব্যের পরিবর্তে কথিত ‘লজ্জাজনক পরাজয়’ সামাল দেওয়ার দিকে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।
ইরানের এই ডেপুটি স্পিকার আরও দাবি করেন, তার দেশ পরিকল্পিত কৌশলের মাধ্যমে যুদ্ধ পরিচালনা করছে। একসঙ্গে সব সামরিক সক্ষমতা ব্যবহার না করে পরিস্থিতি অনুযায়ী কৌশল ও সামরিক সরঞ্জাম পরিবর্তন করছে ইরান বলেও দাবি করেন তিনি।
মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা কমান্ড পোস্টে হামলাকে ইরানের সামরিক সক্ষমতার কেবল একটি অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন নিকজাদ। তার দাবি, মার্কিন কমান্ড সেন্টারে হামলার পর কয়েকজন মার্কিন সামরিক কমান্ডার হোটেলে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।
মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে নিকজাদ বলেন, অবশিষ্ট সামান্য সুনামও হারানোর আগে তাদের যত দ্রুত সম্ভব মধ্যপ্রাচ্য ছেড়ে যাওয়া উচিত।
এ ছাড়া মার্কিন সেনাদের মধ্যে হতাশা এবং আত্মহত্যার ঘটনা বাড়ছে বলেও দাবি করেন তিনি। তবে ইরানি ডেপুটি স্পিকারের এসব বক্তব্য ও দাবির স্বাধীন কোনো যাচাই পাওয়া যায়নি।