দেশের বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিংয়ের কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়েছে। দিনের বিভিন্ন সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ঘরোয়া কাজ থেকে শুরু করে ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা কার্যক্রম এবং অনলাইনভিত্তিক নানা কাজ ব্যাহত হচ্ছে।
বিশেষ করে গরমের সময় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু, বয়স্ক এবং অসুস্থ ব্যক্তিরা বেশি সমস্যার মুখোমুখি হন। ফ্যান, আলো এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে না পারায় অনেক পরিবারকে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মধ্যে সময় কাটাতে হয়।
শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় প্রভাব
লোডশেডিংয়ের কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায়ও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। সন্ধ্যা বা রাতের পড়ার সময় বিদ্যুৎ চলে গেলে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। এছাড়া অনলাইন ক্লাস, পরীক্ষা বা শিক্ষামূলক কার্যক্রমেও বিঘ্ন ঘটতে পারে।
ব্যবসা ও কর্মক্ষেত্রে সমস্যা
বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল বিভিন্ন ব্যবসা ও ছোট শিল্পপ্রতিষ্ঠান লোডশেডিংয়ের কারণে উৎপাদন ও সেবা প্রদানে সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থার জন্য অতিরিক্ত খরচও করতে হয়।
ডিজিটাল কার্যক্রমে বিঘ্ন
বর্তমানে অনেক মানুষ বাসা থেকে অনলাইনে কাজ করেন। বিদ্যুৎ না থাকলে ইন্টারনেট সংযোগ, কম্পিউটার এবং অন্যান্য প্রযুক্তিনির্ভর কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। ফলে কাজের গতি কমে যাওয়া বা নির্ধারিত সময়সীমা রক্ষা করা কঠিন হয়ে যেতে পারে।
খাদ্য সংরক্ষণেও প্রভাব
দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকলে ফ্রিজে সংরক্ষিত খাদ্যদ্রব্যের মান নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে ঘন ঘন দীর্ঘসময় ধরে বিদ্যুৎ বিভ্রাট হলে এ সমস্যা আরও বাড়তে পারে।
সচেতন ব্যবহারের পরামর্শ
আমাদের উচিত বিদ্যুতের অপচয় কমানো, প্রয়োজন ছাড়া বৈদ্যুতিক যন্ত্র ব্যবহার না করা এবং শক্তি সাশ্রয়ী প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করা । একই সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগও গুরুত্বপূর্ণ ।
লোডশেডিং শুধু সাময়িক অস্বস্তিই তৈরি করে না, বরং শিক্ষা, অর্থনীতি এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রার বিভিন্ন ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলে। তাই বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং সচেতন বিদ্যুৎ ব্যবহারের মাধ্যমে এ সমস্যা কমিয়ে আনা প্রয়োজন।