সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় চাঁদাবাজির অভিযোগকে ‘ঢালাও’ বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তাঁর দাবি, ঘটনাটি চাঁদাবাজির কারণে নয়; রাজধানীর মানিকদী নামাপাড়া এলাকায় প্রায় ৩৫ কাঠা জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দখল-বেদখলের ঘটনায় ভাঙচুর হয়েছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুরের ঘটনায় তিনি ‘ভিকটিমাইজড’ হয়েছেন উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি নিয়ে প্রাথমিক তদন্ত হয়েছে। তবে ঘটনার বিস্তারিত জানতে আরও তদন্ত প্রয়োজন। এ ঘটনায় মামলা ও জিডির আইনি প্রক্রিয়া চলছে, যদিও এখনো মামলা হয়নি।
সালমান মুক্তাদির ফেসবুক লাইভে এসে তাঁর কাছে চাঁদা দাবি করা হয়েছিল এবং চাঁদা না দেওয়ায় স্টুডিওতে হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছিলেন। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য, এ ঘটনায় সালমান এখনো কোনো মামলা করেননি। তিনি আরও বলেন, সালমান একপর্যায়ে জানিয়েছেন, তাঁর কাছে কেউ চাঁদা চাননি; চাইলে তিনি দিতেন। এরপর বিএনপিকে ‘চাঁদাবাজ দল’ বলা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, এটি কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নয়।
ঘটনার পেছনে জমি নিয়ে বিরোধের কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মানিকদী নামাপাড়া এলাকার বিতর্কিত জমিটি ক্যান্টনমেন্ট থানার আওতাধীন। প্রাথমিক প্রতিবেদনে সেখানে ‘নিউ গিনি প্রপার্টিজ’ নামের একটি বিল্ডার্স প্রতিষ্ঠান ও একজন অবসরপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তার পক্ষের মধ্যে বিরোধের তথ্য পাওয়া গেছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী অবসরপ্রাপ্ত ওই সামরিক কর্মকর্তার পক্ষে কিছু লোক রাতে জমিটি দখল করতে যায়। সেখানে গিয়ে তারা প্রাঙ্গণে ভাঙচুর চালায়। ওই স্থাপনার মধ্যে সালমান মুক্তাদিরের একটি টিনশেডও ছিল, যেখানে কনটেন্ট তৈরির কাজ হতো। সেটিতেও ভাঙচুর করা হয়েছে।
বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে সংঘর্ষ ও দখল-বেদখলের ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ৯৯৯-এ ফোন পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে গুলির খোসা ও কিছু দেশীয় অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন। মামলা হলে তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী অগ্রগতি জানানো যাবে।