চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে গভীর রাতে এক প্রবাসীর বাড়িতে ঢুকে পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ডাকাতির অভিযোগ উঠেছে। এ সময় বাধা দিতে গেলে নুরুল আলম (৬০) নামে এক বৃদ্ধকে ছুরি দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়। পরিবারের দাবি, ডাকাতেরা সাড়ে পাঁচ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ আড়াই লাখ টাকা ও দুটি মুঠোফোন নিয়ে গেছে।
সোমবার দিবাগত রাতে উপজেলার হিঙ্গুলী ইউনিয়নের পূর্ব হিঙ্গুলী গ্রামের নুরুল আলমের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে ডাকাতেরা পালিয়ে যায়। পরে জোরারগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, নুরুল আলমের দুই ছেলে গিয়াস উদ্দিন সিঙ্গাপুর ও নুর উদ্দিন কাতারে থাকেন। ফলে বাড়িতে নুরুল আলম ছাড়া আর কোনো পুরুষ সদস্য ছিলেন না।
পরিবারের ভাষ্য, রাতে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি সশস্ত্র দল বাড়ির বেলকনির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে বেঁধে ফেলা হয়। কাতারপ্রবাসী নুর উদ্দিনের স্ত্রী সাহেলা আক্তার সুমিকে বেঁধে রেখে তার সন্তানদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে টাকা ও স্বর্ণালংকার বের করে দিতে বলে ডাকাতেরা।
একপর্যায়ে নুরুল আলম বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাকে ছুরি দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়। পরে তার মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে রাখা হয়। এরপর ডাকাতেরা প্রবাসী দুই ছেলের ঘরের আলমারি ও ওয়্যারড্রপ তল্লাশি করে স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও দুটি মুঠোফোন নিয়ে পালিয়ে যায় বলে পরিবারের দাবি।
নুরুল আলম জানান, ডাকাতদের হাতে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র ছিল। বাধা দেওয়ার সময় তাকে ছুরি দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয় এবং পরে মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে রাখা হয়।
নুরুল আলমের পুত্রবধূ সাহেলা আক্তার সুমি জানান, ডাকাতেরা বেলকনির দরজা ভেঙে তাকে বেঁধে ফেলে এবং তার সন্তানদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে। পরে ঘরের জিনিসপত্র তছনছ করে স্বর্ণ, টাকা ও মুঠোফোন নিয়ে যায়।
আরেক পুত্রবধূ কোহিনুর বেগমের ভাষ্য, ডাকাতদের কারও হাতে ছুরি এবং কারও হাতে পিস্তল ছিল। তাদের কাউকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে গলার আওয়াজ শুনে স্থানীয় বলে মনে হয়েছে বলে জানান তিনি।
জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল হালিম জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশের একাধিক দল কাজ শুরু করেছে। দ্রুত ঘটনার বিস্তারিত জানা যাবে এবং জড়িতদের আটক করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।