জুলাই যোদ্ধাদের গায়ে হাত দেবেন না: জামায়াত আমির
সরকারের প্রতি শফিকুর রহমানের আহ্বান, জুলাই যোদ্ধাদের ওপর হামলা হলে তা হবে ‘চরম বিশ্বাসঘাতকতা’
- আপলোড সময় : ০৪-০৮-২০২৬ ০৩:৫৫:০৬ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৫-০৮-২০২৬ ০১:৩৫:১৫ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ১২৪ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত
জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধাদের ওপর কোনো ধরনের হামলা বা নির্যাতন না চালাতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, যাদের আন্দোলনের কারণে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেছে, তাদের গায়ে হাত দেওয়া উচিত নয়।
মঙ্গলবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘আজাদী সংগ্রামের পটভূমিতে জুলাই বিপ্লব ২০২৪’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই যোদ্ধাদের কারণেই বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেছে। তাই তাদের চোখ নষ্ট করা, হাত-পা ভেঙে দেওয়া কিংবা রক্ত ঝরানোর মতো কোনো ঘটনা যেন না ঘটে। এমন ঘটনা ঘটলে সেটিকে তিনি ‘চরম নিমকহারামি’ ও বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে উল্লেখ করেন।
জামায়াত আমির জানান, তিনি ব্যাংককের একটি হাসপাতালে জুলাই আন্দোলনে আহত কয়েকজনকে দেখে এসেছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ এখনো শারীরিকভাবে গুরুতর অবস্থায় রয়েছেন। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, তাদের কয়েকজনের শরীর অবশ হয়ে গেছে এবং তারা জীবনে আর স্বাভাবিকভাবে উঠে বসতে পারবেন না।
তিনি বলেন, ক্ষমতার কারণে যেন মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা ও অতীতের অঙ্গীকার ভুলে যাওয়া না হয়। তা হলে সেটি হবে জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা।
মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের সঠিক তালিকা না থাকার বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে নিহত সাধারণ মানুষ ও মুক্তিযোদ্ধাদের বিষয়ে সঠিক তথ্য সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। তার দাবি, শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা এখনো হয়নি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তিনি শুনেছেন ৬৫৬ জন শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পান। এত বড় সংখ্যক মানুষের মৃত্যুর দাবি থাকলে তাদের সঠিক তথ্য ও রেকর্ড কেন নেই, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি। এ কাজ সরকারের দায়িত্ব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এ ছাড়া ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের আগে রাজনীতিবিদদের বক্তব্য ও অঙ্গীকারের সঙ্গে পরবর্তী সময়ের বক্তব্যের পার্থক্য নিয়েও সমালোচনা করেন জামায়াত আমির। তার অভিযোগ, ৫ আগস্টের পর এবং বিশেষ করে ১২ ফেব্রুয়ারির পর অনেকের রাজনৈতিক বক্তব্য ও অবস্থানে পরিবর্তন এসেছে।
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জনগণের মতামতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের অভিপ্রায়ের ভিত্তিতে গণভোট ও গণরায় হয়েছে। জনগণের দেওয়া রায় সরকারকে অবশ্যই মেনে নিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।