জাতীয় নিরাপত্তার যুক্তিতে বিদেশে তৈরি মানবসদৃশ রোবটে নিষেধাজ্ঞা
চীনসহ অন্যান্য দেশের উন্নত রোবট ও সৌর যন্ত্রাংশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন, কঠোর জবাবে বেইজিংয়ের হুঁশিয়ারি
নিউজটি শুনুন
- আপলোড সময় : ২৯-০৭-২০২৬ ০১:৩১:১৩ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ২৯-০৭-২০২৬ ০১:৩১:১৩ অপরাহ্ন
- ৩ মিনিট পড়ার সময়
- ১৩০ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত
মানুষের মতো দেখতে এমন বিদেশে তৈরি রোবট আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন মঙ্গলবার দাবি করেছে, এসব প্রযুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অগ্রহণযোগ্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। এই নিষেধাজ্ঞা উন্নতমানের রোবটের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এর মধ্যে রয়েছে মানবসদৃশ রোবট এবং চার পায়ের রোবট। এ ধরনের অনেক রোবট চীনে তৈরি হয়। বর্তমানে রোবটিক্স ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তীব্র প্রতিযোগিতায় রয়েছে চীন। একই সঙ্গে ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশন (এফসিসি) ডাটা সেন্টার ও সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থায় ব্যবহৃত পাওয়ার ইনভার্টার আমদানির ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। কমিশনের মতে, এসব যন্ত্রও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির জন্য নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-০২
ওয়াশিংটনে অবস্থিত চীনা দূতাবাস জানিয়েছে, বাণিজ্যিক বিষয়কে রাজনৈতিক রূপ দেয়া এবং ভিত্তিহীন অজুহাতে নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিরোধিতা করে আসছে চীন। এফসিসির চেয়ারম্যান ব্রেনডান কার বলেন, আমেরিকার গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ ব্যবস্থা নিরাপদ রাখতে আমাদের দায়িত্ব পালন করছি।
এফসিসি এসব পণ্যকে তাদের কাভার্ড লিস্টে অন্তর্ভুক্ত করেছে। এটি এমন একটি তালিকা, যেখানে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে বিবেচিত পণ্য ও সেবাগুলোর নাম রাখা হয়। নিষেধাজ্ঞাটি নতুন বিদেশে উৎপাদিত উন্নত রোবট ও পাওয়ার ইনভার্টারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তবে এর আগে এফসিসির অনুমোদন পাওয়া এবং ইতিমধ্যে বাজারে থাকা মডেলগুলোর বিক্রি বা আমদানির ওপর এই সিদ্ধান্তের কোনো প্রভাব পড়বে না। এফসিসির মতে, বিদেশে তৈরি ইনভার্টার ব্যবহার করলে বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো সেগুলো দূর থেকে বন্ধ করে দিতে পারে, তথ্য চুরি করতে পারে, অননুমোদিত দূরবর্তী প্রবেশাধিকার ও নজরদারির সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে অথবা সাইবার হামলার মাধ্যমে এগুলোকে কাজে লাগাতে পারে।
কমিশন আরও জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে তৈরি রোবট ব্যবহার করলে অসৎ উদ্দেশ্যসম্পন্ন পক্ষ আমেরিকান নাগরিকদের ওপর নজরদারি চালাতে, বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সক্ষমতা বাড়াতে কিংবা দূর থেকে রোবটের নিয়ন্ত্রণ দখল করতে পারে। ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাস বলেছে, চীনের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করে এমন যেকোনো পদক্ষেপের জবাবে বেইজিং প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেবে। পাশাপাশি তারা সব দেশকে ইতিবাচক ও মানবকল্যাণমূলক উদ্দেশ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে। দূতাবাস যুক্তরাষ্ট্রকে আধিপত্যবাদী মানসিকতা পরিত্যাগ করে চীনা কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও নিষেধাজ্ঞার হুমকি বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে।
বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা কমানোর চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসনের সময় থেকে চীনা রপ্তানি যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নজরদারির মুখে রয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় বৈদ্যুতিক গাড়ি রপ্তানিকারক দেশ হলেও উচ্চ শুল্কের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে কার্যত প্রবেশ করতে পারেনি চীন। জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা, বেইজিংয়ের সামরিক আধুনিকায়নের গতি কমানো এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিগত অগ্রগামিতা ধরে রাখার লক্ষ্যে ওয়াশিংটন অত্যাধুনিক মার্কিন সেমিকন্ডাক্টর চীনের কাছে বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সতর্ক করে বলেছেন, আমেরিকার মেধাস্বত্ব চুরির অভিযোগে চীনের এআই কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে।
এর জবাবে চীনা সরকার জানিয়েছে, দেশটির কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়ন নিজস্ব প্রচেষ্টা, নিষ্ঠা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ফল। গত বছর চীন বিরল খনিজ বা রেয়ার আর্থ রপ্তানিতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করায় বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় যে চাপ সৃষ্টি হয়েছিল, তার পুনরাবৃত্তি এড়াতে আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্র। এই খনিজগুলো ইলেকট্রনিক্স শিল্পের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চীনের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো কারখানা ও গৃহস্থালিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য দ্রুত মানবসদৃশ রোবট তৈরি করছে। এছাড়া তারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বী মানবসদৃশ রোবট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলা এবং বস্টন ডাইনামিকস-এর আগে নিজেদের প্রযুক্তি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে দ্রুত বাজারজাত করছে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।