শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়াই অনশন ভাঙার কারণ জানালেন সোনম ওয়াংচুক
শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও মামলা এড়াতেই অনশন প্রত্যাহারের ব্যাখ্যা দিলেন তিনি
নিউজটি শুনুন
- আপলোড সময় : ২৫-০৭-২০২৬ ০১:২৭:১৩ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ২৫-০৭-২০২৬ ০১:২৭:১৩ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ১০৬ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি বহাল থাকলেও আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা ঠেকানোর স্বার্থেই ২৬ দিনের অনশন প্রত্যাহার করেছেন পরিবেশ আন্দোলনকর্মী ও বিজ্ঞানী সোনম ওয়াংচুক। সরকারের লিখিত আশ্বাস পাওয়ার পরই তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন বলে জানিয়েছেন।
নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-১৫
শুক্রবার রাতে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় ৫৯ বছর বয়সী সোনম ওয়াংচুক বলেন, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি এখনো আন্দোলনের অংশ হিসেবে বহাল রয়েছে। তবে অনশন দীর্ঘায়িত হলে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা আরও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন বলে তিনি মনে করেন। সে কারণে সরকারের কাছ থেকে লিখিত নিশ্চয়তা পাওয়ার পর অনশন ভাঙার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
গত ২৮ জুন থেকে দিল্লির যন্তর মন্তরে অনির্দিষ্টকালের অনশনে ছিলেন ওয়াংচুক। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়মের তদন্ত, শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে তিনি এই কর্মসূচি শুরু করেন।
বৃহস্পতিবার গভীর রাতে তিনি অনশন প্রত্যাহার করেন। এর আগে কেন্দ্রীয় সরকার লিখিতভাবে জানায়, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা করা হবে না। পাশাপাশি পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার, প্রশ্নফাঁসের বিষয়টি সংসদে আলোচনার উদ্যোগ এবং প্রশ্নফাঁসের ঘটনার জেরে আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ বিবেচনার আশ্বাস দেওয়া হয়।
অনশন প্রত্যাহারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার মুখে পড়েন ওয়াংচুক। অনেকেই অভিযোগ করেন, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ নিশ্চিত না করেই তিনি আন্দোলন থেকে সরে গেছেন।
এর জবাবে ওয়াংচুক বলেন, কোনো মন্ত্রীকে পদত্যাগে বাধ্য করা তার ব্যক্তিগত দায়িত্ব নয়। তার প্রধান লক্ষ্য ছিল আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের হয়রানি থেকে রক্ষা করা এবং তাদের বিরুদ্ধে কোনো এফআইআর দায়ের না হওয়া নিশ্চিত করা। তিনি জানান, সরকারের সঙ্গে আলোচনায় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের বিষয়টি উত্থাপন করা হলেও এ বিষয়ে সরকার আরও সময় চেয়েছে।
ওয়াংচুকের দাবি, জনমত ও আন্দোলনের চাপ অব্যাহত থাকলে সরকার একসময় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবে। তাই তিনি আন্দোলনের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দাবিকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।
সরকারের সঙ্গে গোপন সমঝোতার অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেন ওয়াংচুক। তার ভাষ্য, সমঝোতার উদ্দেশ্য থাকলে ২৬ দিন অনশনে থাকার প্রয়োজন হতো না। তিনি আরও জানান, কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পরও আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা না করার লিখিত নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত তিনি নিজের অবস্থান পরিবর্তন করেননি।
এদিকে অনশন ভাঙার সময় আন্দোলনের সহযোদ্ধা, শিক্ষার্থী ও সমর্থকদের অনেকেই পাশে থাকতে না পারায় আক্ষেপ প্রকাশ করেন ওয়াংচুক। তিনি বলেন, অনশন চলাকালে যারা তাকে সমর্থন দিয়েছেন, তাদের অনুপস্থিতিই ছিল তার সবচেয়ে বড় কষ্ট। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি এখনো শেষ হয়নি এবং আন্দোলনের ধারাবাহিকতার মধ্য দিয়েই তা এগিয়ে নেওয়া হবে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।