ভারতের রাজধানী দিল্লিতে চলমান বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রাজধানীর অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক এলাকা কনট প্লেসের সব দোকান, অফিস ও রেস্তোরাঁ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটের মধ্যে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে নিউ দিল্লি ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং নিউ দিল্লি মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিল যৌথভাবে এ সিদ্ধান্ত নেয়।
যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষা নিটের প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে আন্দোলনরত ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) হাজারো কর্মী সেন্ট্রাল দিল্লিতে অবস্থান নিয়েছেন। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জানমালের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, নির্দেশনা জারির পর কনট প্লেসের আউটার সার্কেলসহ আশপাশের ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকার শত শত দোকান, রেস্তোরাঁ ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দ্রুত বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এদিকে আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি সহিংসতার অভিযোগ এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে শুক্রবার ২৪ জুলাই দেশব্যাপী শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় সংগঠনটি শিক্ষার্থী ও সাধারণ জনগণকে কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
সংগঠনটির নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রতিটি জেলায় একযোগে কর্মসূচি পালন করতে হবে এবং সমাবেশে শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো প্রকাশ্যে তুলে ধরতে হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন ছাত্র ও সামাজিক সংগঠনকে সমন্বয়ের মাধ্যমে কর্মসূচি সফল করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে চলমান সংকট নিরসনে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করেছে মোদি সরকার। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং জানান, বুধবার থেকে আন্দোলনের প্রতিনিধিদের কাছে আলোচনার জন্য চারটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে যেকোনো সময় আলোচনায় বসতে প্রস্তুতি রয়েছে এবং আন্দোলনকারীদের সুবিধাজনক সময়েই বৈঠক আয়োজন করা হবে। এ আলোচনায় কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডাও অংশ নেবেন বলে জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে কয়েক সপ্তাহ ধরে আন্দোলন চলছে। গত সোমবার সংসদ অভিযানের কর্মসূচিকে ঘিরে দিল্লিতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরদিন আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি দমনপীড়নের অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের সামনে বিক্ষোভে অংশ নেন বিরোধী দলীয় নেতারা। এরপর থেকে আন্দোলনের পরিধি আরও বিস্তৃত হয়েছে।
ডেস্ক রিপোর্ট