ভারতের কাপুরথালার রেল কোচ ফ্যাক্টরিতে আধুনিক এলএইচবি (লিংক-হফম্যান-বুশ) প্রযুক্তিতে কোচগুলো তৈরি হচ্ছে। এগুলোর সরবরাহ করছে ভারতীয় রেলওয়ের রপ্তানি সংস্থা রাইটস লিমিটেড। চার ধরনের নকশার অনুমোদন পাওয়ার পর ইতোমধ্যে উৎপাদন শুরু হয়েছে।
রাইটস লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাহুল মিথাল জানিয়েছেন, শিগগিরই ২০টি কোচের প্রথম চালান বাংলাদেশে পাঠানো হবে। ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে ১২০টি ব্রডগেজ এলএইচবি কোচ, ৩৬টি ব্রডগেজ লোকোমোটিভ এবং ১০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ সরবরাহ করেছে।
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ সরকার রেলব্যবস্থা আধুনিকীকরণের অংশ হিসেবে আরও ২৬০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ, ৪৬টি ব্রডগেজ লোকোমোটিভ এবং ৫০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ সংগ্রহের পরিকল্পনা করছে।
ইউরোপীয় ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়িত এ প্রকল্পের আওতায় ২০২৬ সালের জুন থেকে ধাপে ধাপে নতুন কোচগুলো বাংলাদেশ রেলওয়ের বহরে যুক্ত হবে। সংশ্লিষ্টদের আশা, এতে কোচ সংকট অনেকটাই কমবে এবং যাত্রীসেবার মান ও সক্ষমতা বাড়বে।
বাংলাদেশ রেল মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নতুন কোচ যুক্ত হলে আন্তঃনগর ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন রুট চালুর সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষ করে ঢাকা ও উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার মধ্যে রেল যোগাযোগ আরও শক্তিশালী হবে।
এদিকে, এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কলকাতা-ঢাকা মৈত্রী এক্সপ্রেস পুনরায় চালুর বিষয়ে আগামী সেপ্টেম্বরে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা শুরু হতে পারে। ২০২৪ সালে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে ট্রেনটির চলাচল স্থগিত করা হয়েছিল।
বর্তমানে বাংলাদেশে মিটারগেজ, ব্রডগেজ ও ডুয়ালগেজ মিলিয়ে ৩ হাজার ৪০০ কিলোমিটারের বেশি রেললাইন রয়েছে। যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে রেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের পাশাপাশি নতুন রোলিং স্টক যুক্ত করার উদ্যোগও অব্যাহত রয়েছে।
ডেস্ক রিপোর্ট