ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার লক্ষ্য ছিল দেশটির প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফন ও শোকযাত্রা বিঘ্নিত করা। তাদের দাবি, মাশহাদগামী গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সেতুতে আঘাত হেনে যোগাযোগ ব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে।
আইআরজিসির এক বিবৃতিতে বলা হয়, দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় অঞ্চল ছাড়াও পূর্বাঞ্চলের পবিত্র শহর মাশহাদের পথে অবস্থিত দুটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুতে হামলা চালানো হয়েছে। এতে খামেনির দাফন অনুষ্ঠান ও জনসমাগমে প্রভাব ফেলার উদ্দেশ্য ছিল বলে অভিযোগ করা হয়।
এদিকে, ইরানি সূত্র জানায়, খামেনির শোকযাত্রা চলাকালে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাতে যুক্তরাষ্ট্র চার ঘণ্টাব্যাপী সামরিক অভিযান চালায়, যেখানে ৮০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করা হয়। একই সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প কার্যকর যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার ঘোষণা দেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
পরিস্থিতির জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত একাধিক মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে বলে জানানো হয়েছে। আইআরজিসির দাবি, বাহরাইন ও কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ৮৫টি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে, যা তাদের ‘শাস্তিমূলক প্রতিক্রিয়া’র অংশ।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র বুধবার (৮ জুলাই) রাতেও ইরানে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। মার্কিন বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জবাবে ইরানের সামরিক অবকাঠামো, উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জানিয়েছে, গোলেস্তান প্রদেশের আককালা এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুতে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে, যার ফলে আশপাশের রেলপথে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তবে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
আইআরজিসি আরও সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি পুনরায় হামলা চালায়, তাহলে তাদের প্রতিক্রিয়া আরও বিস্তৃত ও কঠোর হবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত অন্যান্য মার্কিন ঘাঁটিও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পাল্টাপাল্টি অবস্থান আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
ডেস্ক রিপোর্ট