অতিবৃষ্টি ও খরার বিরূপ প্রভাবে মানিকগঞ্জে মরিচ চাষে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। ঋণ নিয়ে জমিতে মরিচ আবাদ করলেও এখন গাছ মারা যাওয়া, ফল ঝরে পড়া এবং রোগবালাইয়ের কারণে লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের। কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে এবং সহায়তার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, মরিচের ভরা মৌসুমেই সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় চাষিরা। অনিয়মিত আবহাওয়া—কখনও অতিবৃষ্টি, আবার কখনও খরার প্রভাবে গাছের ফুল ও ফল ঝরে যাচ্ছে। অনেক ক্ষেতেই গাছ ঢলে পড়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, ফলে উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে অনেক জমিতে পানি জমে থাকায় থুবরাসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মরিচ গাছ। এতে বিঘার পর বিঘা জমির ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কৃষকদের অভিযোগ, দিনরাত পরিশ্রম করেও তারা প্রত্যাশিত ফল পাচ্ছেন না, বরং ঋণের বোঝা বাড়ছে।
স্থানীয় কৃষক আরিফ বলেন, সারা বছর সার ও কীটনাশক দিয়ে গাছ বড় করলেও এখন সেই গাছই মারা যাচ্ছে। আরেক কৃষক করিম জানান, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে লোকসান আরও বাড়ছে। কৃষক আব্দুর রহমান জামান বলেন, ঋণ নিয়ে চাষ শুরু করলেও প্রায় পুরো ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তিনি আর্থিক সংকটে পড়েছেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ শাজাহান সিরাজ জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের নিয়মিত দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সম্ভাব্য ক্ষতিপূরণ ও সহায়তার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে। উল্লেখ্য, চলতি মৌসুমে মানিকগঞ্জ জেলায় প্রায় ৩ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে মরিচের আবাদ হয়েছে।
ডেস্ক রিপোর্ট