ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ (শরৎকাল) , ১৮ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
সংবাদ শিরোনাম :
এআই অসৎ লোকের হাতে পড়লে ১০০ কোটি মানুষের প্রাণ যেতে পারে: বিল গেটস জানুয়ারির অধিবেশনেই সংবিধান সংশোধন বিল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাকৃবির ১০ তলা হলে লিফট নেই, না খেয়েই দিন কাটছে ছাত্রীদের র‌্যাবের পর এসআরবি, বদলেছে নাম ও আইনি কাঠামো তারেক রহমান ও থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক জাতিসংঘে শান্তিপূর্ণ বিশ্বব্যবস্থা গড়ার আহ্বান তারেক রহমানের সুপার এল নিনো কি, কিভাবে এটা আবহাওয়াকে প্রভাবিত করে? গাজায় ট্রাম্পের শান্তি দাবি উড়িয়ে দিয়ে একে ‘লজ্জাজনক’ বললেন ম্যাক্রো তেল ও গ্যাস সাপ্লাই চেইনের ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাংক সহায়তা করতে রাজি আছে বোয়িংয়ের সঙ্গে আরও ১১টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ট্রাম্পের দেওয়া নৈশভোজে অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দম্পতি থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলে স্বাধীন ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ঘোষণা জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় বাসের ভাড়া ১৭ পয়সা বাড়ল আল-আকসার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে ইসরাইল:শায়খ ইকরিমা সাবরি অপ্রতিম হত্যা মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটন: আইফোন ছিনতাই ও পাঁচ হাজার টাকা অব্যবহৃত ২৪টি ট্রমা সেন্টার চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার নয়াদিল্লির একাধিক স্কুলে ইমেইলে বোমা হামলার হুমকি: তল্লাশি অভিযান শুরু সমুদ্রের ১০ মিটার গভীরে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে চীনা বিজ্ঞানীদের সাফল্য জাতিসংঘে ভাষণ দিতে সোমবার নিউইয়র্ক যাচ্ছেন তারেক রহমান ইসরায়েলের কাছে ৬০ হাজার ভারী বোমা বিক্রির চূড়ান্ত প্রস্তুতি ট্রাম্পের

বিশ্বকাপ উন্মাদনার অন্ধকার দিক : অবক্ষয় ও বাস্তবতা

নিউজটি শুনুন
  • আপলোড সময় : ০১-০৭-২০২৬ ০১:০২:৪৩ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০১-০৭-২০২৬ ০৬:০৮:৪৭ পূর্বাহ্ন
  • ৩ মিনিট পড়ার সময়
  • ১৯০ বার পঠিত
বিশ্বকাপ উন্মাদনার অন্ধকার দিক : অবক্ষয় ও বাস্তবতা প্রতীকী ছবি- ( সংগৃহীত)
খেলা নিয়ে মাতামাতি কখনো কখনো উন্মাদনার পর্যায়ে চলে যায়। আন্তর্জাতিক পর্যায়ের কোনো আসর হলে তো কথাই নেই, তখন উন্মাদনাই যেন স্বাভাবিক, আর স্বাভাবিক থাকাটাই অস্বাভাবিক। এই বাঁধভাঙ্গা উন্মাদনার পেছনে আমাদের মিডিয়া ও সমাজ বহুলাংশে দায়ী।

 

 

নানা স্তরের পুঁজিবাদী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এতে আর্থিকভাবে লাভবান হলেও ক্ষতিগ্রস্ত হয় সাধারণ মানুষ। তাদের মেধা ও সময়ের বিপুল অপচয় হয়, চিন্তা ও কর্মের অধঃপতন ঘটে, ঝগড়া-ফ্যাসাদ সৃষ্টি হয় এমনকি মর্মান্তিক আত্মহননেরও সংবাদ শোনা যায়।

 

বিশ্বকাপ ফুটবলকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে প্রায়ই সমর্থকদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক, ঝগড়া এমনকি মারামারির ঘটনাও দেখা যায়। অনেক ক্ষেত্রে প্রিয় দলের জয়-পরাজয়কে ব্যক্তিগত মর্যাদার বিষয় হিসেবে নিয়ে একে অপরের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন কেউ কেউ। এছাড়া পতাকা, জার্সি, ব্যানার, উৎসব ও বিভিন্ন আয়োজনের পেছনে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়।

 

এই অর্থহীন কর্মকাণ্ডের দায় কি তাদের উপরও কিছু পরিমাণে আসে না, যারা খেলাধুলাকে উন্মাদনার পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার সাথে কোনো না কোনোভাবে জড়িত। বিষয়টি শান্ত মনে চিন্তা-ভাবনা করা উচিত।

 

বর্তমান সময়ের বিনোদন-ভোক্তাদেরও বুঝতে হবে যে, বিনোদন ও খেলাধুলার চেয়ে জীবনের মূল্য অনেক বেশি। জীবনদাতা আল্লাহ এই জীবন এই জন্য দেননি যে, মানুষ তা খেলাধুলায় কাটিয়ে দিবে। জীবন তো এজন্য দেয়া হয়েছে, যেন মানুষ জীবনদাতার পরিচয় লাভ করে এবং তাঁর প্রতি বিশ্বাস ও আনুগত্যের মাধ্যমে জীবনকে সার্থক ও আলোকিত করে। হায়! আল্লাহর যে বান্দা তার রবের পরিচয়ই পেল না, তার প্রতি ঈমান ও বিশ্বাস ছাড়াই দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়ে চলে গেল তার জীবন তো সম্পূর্ণ ব্যর্থই হয়ে গেল। যেসকল মানুষকে আল্লাহ তাআলা ঈমানের দৌলত নসিব করেছেন তারা তো মহাসম্পদ লাভ করেছেন। জীবনকে সার্থক ও সাফল্যমণ্ডিত করার প্রধান উপায় তাদের হাসিল হয়েছে। তারা যদি তাদের দ্বীনের শিক্ষার দিকে নজর দেন তাহলে উপলব্ধি করতে পারবেন জীবন ও কর্মকে অর্থপূর্ণ করার কী অব্যর্থ শিক্ষা তাদের ধর্মে রয়েছে। চিন্তাশীলতা ও বিচার-বিবেচনার কী উৎসাহই না এতে দেওয়া হয়েছে। জীবনের ছোট থেকে ছোট কর্মেও আছে মুহাসাবা ও বিচার-বিশ্লেষণের শিক্ষা। বুদ্ধিমান মানুষের বুদ্ধি-বিবেচনার এর চেয়ে যথার্থ মূল্যায়ন আর কী হতে পারে?

 

খেলায় অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন দলের সমর্থক হয়ে যাওয়াটা আসলে কী? এই সমর্থন-অসমর্থনটা কীসের জন্য? ব্যক্তি বা সমাজের এতে কী উপকার? মানুষের যে কোনো কাজেরই তো একটা অর্থ থাকবে? যে মানুষকে আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন বিচার-বুদ্ধি দিয়ে, অর্থহীন কাজে লিপ্ত হওয়া তো তার নিজের বিচার-বুদ্ধির প্রতি অবিচার। পরিবেশ-পরিস্থিতির কারণে এই প্রশ্নগুলোও কারো কাছে আশ্চর্যের বিষয় মনে হতে পারে। কিন্তু আসলেই কি এগুলো ভাবার ব্যাপার নয়।

 

আমাদের সমাজ-চিন্তকদের যুবশ্রেণির আবেগ-অনুভূতি নিয়েও ভাবা প্রয়োজন। আবেগ মানুষের অনেক বড় শক্তি। এই শক্তির অপচয়ও তাই অনেক বড় অপচয়। তরুণ-যুবকদের আবেগকে সঠিক ও ইতিবাচক কাজে নিয়োজিত করার জন্য এবং অন্যায়-অর্থহীন কাজে নিঃশেষ হওয়া থেকে রক্ষার জন্য সুচিন্তিত পদক্ষেপ নিতে হবে।

 

জাতি ও জীবন গঠনের বহু ক্ষেত্র রয়েছে, যাতে আমাদের যুবশক্তির মেধা, আবেগ ও কর্মশক্তির প্রয়োজন। এগুলো সঠিক পথে পরিচালিত হলে জীবনগঠন ও জাতিগঠনের পথে অগ্রসর হওয়া সম্ভব হবে। পক্ষান্তরে এই অমূল্য সম্পদের অপচয় ব্যক্তি ও জাতিকে শুধু পিছিয়েই দিবে।

 

সংগৃহীত এবং পরিমার্জিত : মাসিক আল কাউসার (আব্দুল্লাহ নসীব হাফি)


নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-০২

মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।