ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত এখন একটি ‘নির্ণায়ক পর্যায়ে’ পৌঁছেছে বলে মন্তব্য করেছেন ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ। শনিবার (১৪ মার্চ) দেওয়া এক টেলিভিশন ভাষণে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে ইরানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক চাপ ক্রমশ তীব্র হচ্ছে এবং পরিস্থিতি এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা প্রয়োজন অনুযায়ী অব্যাহত থাকবে।
এই বক্তব্যের পটভূমিতে রয়েছে ইরানের উপকূলবর্তী হরমুজ প্রণালীর কাছে অবস্থিত খার্গ দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বিমান হামলা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে অন্যতম শক্তিশালী বিমান হামলা চালিয়েছে এবং দ্বীপটিতে অবস্থিত সব সামরিক লক্ষ্যবস্তু সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করা হয়েছে।
তবে হামলার সময় দ্বীপটির তেল অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করা হয়নি বলে জানান ট্রাম্প। তিনি বলেন, আপাতত সে ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তবে ইরান বা অন্য কোনো পক্ষ যদি হরমুজ প্রণালীর মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার চেষ্টা করে, তাহলে সেই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট একই সঙ্গে ইরানকে অস্ত্র সমর্পণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, নিজেদের দেশের অবশিষ্ট সম্পদ ও স্থিতিশীলতা রক্ষার স্বার্থে এখনই তাদের অস্ত্র নামিয়ে রাখা উচিত।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট হওয়ায় সেখানে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র অন্যান্য দেশগুলোর ওপরও চাপ বাড়াচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই পথ দিয়ে তেল ও বাণিজ্যিক পণ্যের চলাচল অব্যাহত রাখতে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের বীমা সহায়তার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
এ ছাড়া সম্ভাব্য নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র নৌবাহিনীকে হরমুজ প্রণালীর জাহাজ চলাচল সুরক্ষার দায়িত্ব দিতে পারে। আরেকটি পরিকল্পনায় জাপান থেকে প্রায় দুই হাজার পাঁচশ’ মার্কিন মেরিন সেনা মোতায়েনের বিষয়টি রয়েছে, যারা দুই সপ্তাহের মধ্যে ওই অঞ্চলে পৌঁছে নিরাপত্তা কার্যক্রমে অংশ নিতে পারে।
একই সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানকে সতর্ক করে জানিয়েছে, পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে গেলে ইরানের তেল অবকাঠামোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে। যদিও এখন পর্যন্ত এ ধরনের সরাসরি হামলার বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
ডেস্ক রিপোর্ট