‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ-৪’: ২৪ ঘন্টায় ২ শতাধিক মার্কিন সেনা হতাহতের দাবি ইরানের
- আপলোড সময় : ০৮-০৩-২০২৬ ০৩:৫০:২২ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৮-০৩-২০২৬ ০৩:৫৭:৪৩ পূর্বাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ৬৩ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের জবাবে পাল্টাহামলা শুরু করেছে ইরান। তেহরানের দাবি, গত ২৪ ঘণ্টায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটিতে চালানো ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ-৪’ (Operation True Promise-4)-এর আওতায় অন্তত দুই শতাধিক মার্কিন সেনা নিহত বা আহত হয়েছেন। শনিবার (৭ মার্চ) ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয়েছে। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এই খবরটি নিশ্চিত করেছে।
খাতাম আল-আনবিয়া সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের বিভিন্ন সামরিক ইউনিটের সমন্বিত এই হামলায় মার্কিন সামরিক অবকাঠামো ও সম্পদের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। হামলার মূল লক্ষ্যবস্তু ছিল:
- পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় হামলায় ২১ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং আরও অনেকে গুরুতর আহত হয়েছেন।
- সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত মার্কিন আল দাফরা বিমানঘাঁটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রায় ২০০ জন মার্কিন সেনা হতাহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে তেহরান।
- পারস্য উপসাগরের উত্তর অংশে যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন একটি বিশাল তেলবাহী ট্যাংকারেও সফল হামলা চালানো হয়েছে।
ইরানি সামরিক কমান্ড জানিয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কমান্ডারকে হত্যার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যে সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু করেছিল, এটি তারই কঠোর জবাব। তেহরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, তাদের শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্যবস্তু করার পরিণতি হিসেবে এই ‘প্রতিশোধমূলক’ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে এবং প্রয়োজন হলে হামলার মাত্রা আরও বাড়ানো হবে।
ইরানের এই বিশাল ক্ষয়ক্ষতির দাবির বিপরীতে এখন পর্যন্ত পেন্টাগন বা সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান দেওয়া হয়নি। সাধারণত যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষই নিজ নিজ সাফল্যের দাবি করে থাকে। তবে বাহরাইন ও আরব আমিরাতের আকাশে দফায় দফায় বিস্ফোরণের শব্দ এবং মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে জরুরি অবস্থার সাইরেন বাজার খবর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোতেও উঠে এসেছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, যদি ইরানের এই দাবি আংশিক সত্যও হয়, তবে এটি হবে গত কয়েক দশকের মধ্যে মার্কিন বাহিনীর ওপর সবচেয়ে বড় এবং প্রাণঘাতী হামলা।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।