চিকিৎসকদের পরামর্শ ও নির্দিষ্ট স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিরাও নিরাপদে রোজা রাখতে পারেন—এমন তথ্য জানিয়েছে অ্যাসোসিয়েশন অব ক্লিনিক্যাল এন্ডোক্রিনোলজিস্ট অ্যান্ড ডায়াবেটোলজিস্ট অব বাংলাদেশ (এসেডবি)। রমজান শুরুর অন্তত দুই থেকে তিন মাস আগে জীবনযাপন ও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা ঠিক করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
রমজান সামনে রেখে মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) রাজধানীর পরীবাগে মোতালেব টাওয়ারে সংগঠনের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন এসেডবির সভাপতি ও বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. ফরিদ উদ্দিন। সম্মেলনে জানানো হয়, রোজা অবস্থায় রক্ত পরীক্ষা করা বা প্রয়োজনে ইনসুলিন গ্রহণ করলে রোজার ক্ষতি হয় না—এ বিষয়ে আলেম সমাজের মতামতও ইতিবাচক।
বিশেষজ্ঞরা জানান, অনেক ডায়াবেটিস রোগীরাই রোজা পালন করেন। তবে যারা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই রোজা রাখেন, তাদের মধ্যে কখনো কখনো হাইপোগ্লাইসেমিয়া (রক্তে শর্করা কমে যাওয়া), হাইপারগ্লাইসেমিয়া (রক্তে শর্করা বেড়ে যাওয়া), ডায়াবেটিক কিটোএসিডোসিস এবং পানিশূন্যতার মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে।
উপযুক্ত প্রস্তুতি থাকলে ডায়াবেটিস রোজা পালনের ক্ষেত্রে বড় কোনো বাধা নয়। রমজানের দুই থেকে তিন মাস আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে খাদ্যাভ্যাস, ওষুধ ও দৈনন্দিন রুটিন সমন্বয় করলে ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে।
রোজা মানুষকে নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপনে অভ্যস্ত করে, যা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। আগে থেকেই সুগার নিয়ন্ত্রণে এনে রোজা রাখলে স্বাস্থ্যগত উপকারও পাওয়া যায়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এসেডবির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. ইন্দ্রজিৎ প্রসাদ, অধ্যাপক ডা. মীর মোশাররফ হোসেন, সহযোগী অধ্যাপক ডা. মইনুল ইসলাম, ডা. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, ডা. মো. আশিকুর রহমান ও ডা. মো. মাহমুদ হাসানসহ দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।