টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসের কারণে বান্দরবান জেলার প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। সাম্প্রতিক এই বন্যা পরিস্থিতিতে জেলার অধিকাংশ ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে, প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির ঘটনাও ঘটেছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জেলা প্রশাসক সানিউল ফেরদৌস জানান, জেলার ৩৪টি ইউনিয়নের মধ্যে ২৯টি ইউনিয়ন বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত ৬ থেকে ১৩ জুলাই পর্যন্ত সময়ে জেলায় মোট ৫৮১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়, যার ফলে সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত করে।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ৪৯টি ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে ১১টি বড় আকারের ভূমিধসে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এ দুর্যোগে লামা উপজেলায় ভূমিধসে ৬ জন এবং পানিতে ডুবে আরও ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া প্রায় ১২ হাজার ৫০০ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে বান্দরবান পৌরসভা, লামা পৌর এলাকা ও সদর উপজেলা।
অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির মধ্যে সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রায় ৬৫ কিলোমিটার এবং এলজিইডির প্রায় ৯০ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষি খাতেও বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে; প্রাথমিক হিসাবে ২ হাজার ১০৪ হেক্টর জমি ও বাগান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে ৩৬৮ হেক্টরের ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে। এতে প্রায় ৫ হাজার ২০ জন কৃষক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।
জেলা প্রশাসক জানান, সামগ্রিকভাবে রাস্তাঘাট, কৃষি ও অন্যান্য খাতে মিলিয়ে প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এখনো পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়নি। সব তথ্য সংগ্রহ শেষে ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট চিত্র জানা যাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ডেস্ক রিপোর্ট