ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় একটি খাল খনন প্রকল্পের শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধকে কেন্দ্র করে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার প্রায় ১৬ দিন পরও অনেক শ্রমিক তাদের সম্পূর্ণ পারিশ্রমিক না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। এ নিয়ে হাজীগঞ্জ সোনালী ব্যাংক শাখা এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গাজীরটেক ইউনিয়নের হাজীগঞ্জ বাজার সংলগ্ন পদ্মা নদী থেকে ভুবনেশ্বর নদী পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ খাল খনন প্রকল্পে প্রায় দুই মাস ধরে শ্রমিকরা কাজ করেন। সম্প্রতি শ্রমিকদের মধ্যে জনপ্রতি ৯ হাজার ৯০০ টাকা মূল্যের চেক বিতরণ করা হয়।
শ্রমিকদের অভিযোগ, ব্যাংক থেকে চেকের টাকা উত্তোলনের পর কয়েকজনের কাছ থেকে জোরপূর্বক ৫ হাজার টাকা করে ফেরত নেওয়া হয়। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা ব্যাংক চত্বরে প্রতিবাদ জানালে সুপারভাইজারের সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডা শুরু হয় এবং একপর্যায়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
অভিযোগের বিষয়ে প্রকল্পের সুপারভাইজার আব্দুল মান্নান সরদার বলেন, তিনি দুইজন শ্রমিকের কাছ থেকে মোট ১০ হাজার টাকা নিয়েছিলেন। তবে পরে সেই টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, পর্যায়ক্রমে সব শ্রমিকের হাতে তাদের প্রাপ্য চেক পৌঁছে দেওয়া হবে।
এ বিষয়ে চরভদ্রাসন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) বলেন, শ্রমিকদের অভিযোগ তাদের নজরে এসেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়েছে। কোনো শ্রমিক যেন তার ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তদন্ত শেষে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি জানান।
প্রশাসনের আশ্বাসের পর পরিস্থিতি শান্ত হলেও ভুক্তভোগী শ্রমিকরা দ্রুত তাদের বকেয়া ও সম্পূর্ণ মজুরি পরিশোধ এবং অভিযোগে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
স্টাফ রিপোর্টার