ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬ , ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ (শরৎকাল) , ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
সংবাদ শিরোনাম :
বাণিজ্যিক কোচিংয়ে যুক্ত হতে পারবেন না বিচার বিভাগের কর্মকর্তারা গণহত্যা স্মরণে উখিয়ায় লাখো রোহিঙ্গার প্রত্যাবাসন দাবিতে সমাবেশ ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা ‘লোকদেখানো’ দাবি মার্কিন সিনেটরের রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় এআই ক্যামেরার সুফল ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা স্কুলের নির্ধারিত ইউনিফর্মের সঙ্গে হিজাব পরার আবেদন খারিজ করল এলাহাবাদ বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস কমিয়ে শিল্পে সরবরাহ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে দুই দেশ কাজ করছে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ফারাক্কা ব্যারাজের সব গেট খুলে দেওয়ার দাবি বিহারের মুখ্যমন্ত্রীর মহারাষ্ট্রের সরকারি হাসপাতালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: তিন নবজাতকের মৃত্যু ‘জেন-জি’ প্রজন্মের মন জয় করতে ইনস্টাগ্রামে কৌশল বদলাচ্ছেন মোদি বঙ্গোপসাগরে কার্গো জাহাজডুবি: নিখোঁজ বাংলাদেশি নাবিকসহ ২৪ জন ঢাকার বাস টার্মিনাল স্থানান্তর থমকে: নেপথ্যে চাঁদাবাজি ? সঠিক পরিকল্পনা নিয়ে সরকার জনআকাঙ্ক্ষা পূরণে কাজ করছে: পানিসম্পদমন্ত্রী জাতীয় ই-হেলথ প্ল্যাটফর্ম চালুর উদ্যোগ, শুরু হবে পাইলট প্রকল্প জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানালেন নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপনির্বাচন, মির্জা ফখরুলের উত্তরসূরি নিয়ে জল্পনা যানজট নিয়ন্ত্রণে ড্রোন নজরদারি চালু করছে ডিএমপি আজ সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেবেন মির্জা ফখরুল ঝুঁকি সত্ত্বেও ইরান থেকে তেল আমদানি বন্ধের সম্ভাবনা কম চীনের ফ্রান্সে রেকর্ড তাপপ্রবাহে মৃত্যুর মিছিল: প্রাণ হারালেন ৭ হাজারের বেশি

ইয়ারলুং সাংপো নদীতে চীনের ‘দানবীয়’ বাঁধের নিচে সক্রিয় ফল্ট লাইন: ভূমিকম্প ও ভূমিধসের ঝুঁকিতে ভারত-বাংলাদেশ

নিউজটি শুনুন
  • আপলোড সময় : ১১-০৭-২০২৬ ০৩:১৯:০৮ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১২-০৭-২০২৬ ১২:১২:২৮ অপরাহ্ন
  • ৩ মিনিট পড়ার সময়
  • ১৪১ বার পঠিত
ইয়ারলুং সাংপো নদীতে চীনের ‘দানবীয়’ বাঁধের নিচে সক্রিয় ফল্ট লাইন: ভূমিকম্প ও ভূমিধসের ঝুঁকিতে ভারত-বাংলাদেশ ছবি: সংগৃহীত
তিব্বতের ইয়ারলুং সাংপো (ভারতে ব্রহ্মপুত্র এবং বাংলাদেশে যমুনা নামে পরিচিত) নদীর ওপর নির্মাণাধীন বিশ্বের সর্ববৃহৎ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ঠিক তলদেশে একটি সক্রিয় ভূগর্ভস্থ চ্যুতি বা ফল্ট লাইনের অস্তিত্ব খুঁজে পেয়েছেন চীনের সরকারি ভূবিজ্ঞানীরা। হিমালয় অঞ্চলের এই ফল্ট লাইনটি নির্মাণাধীন মেগা বাঁধের কাঠামোগত নিরাপত্তা ও স্থায়িত্বকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে বলে জানিয়েছেন তাঁরা।

হংকং-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ‘চায়না জিওলজিক্যাল সার্ভে’-র তত্ত্বাবধানে মান্দারিন ভাষায় প্রকাশিত ‘সেডিমেন্টারি জিওলজি অ্যান্ড টেথিয়ান জিওলজি’ সাময়িকীতে গত মাসে এই গবেষণা পত্রটি প্রকাশিত হয়েছে। চেংদু ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি, চায়না জিওলজিক্যাল সার্ভের সিভিল-মিলিটারি ইন্টিগ্রেশন সেন্টার এবং মিডল ইয়ারলুং সাংপো রিভার ন্যাচারাল রিসোর্সেস অবজারভেশন অ্যান্ড রিসার্চ স্টেশনের চীনা ভূতাত্ত্বিকদের একটি যৌথ দল গবেষণাটি পরিচালনা করেছে।

গবেষকেরা তাঁদের প্রতিবেদনে লিখেছেন, ‘পাইঝেন ফল্ট’ নামের এই ভূগর্ভস্থ ফাটলটি প্লাইস্টোসিন বা বরফ যুগ থেকে আজ পর্যন্ত সক্রিয়। এই সক্রিয়তার কারণে এটি মেদগ কাউন্টির এই মেগা বাঁধ, সংযোগকারী সড়ক, সেতু, টানেল এবং সামগ্রিক কৃত্রিম জলাধারের কাঠামোর ওপর বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। দীর্ঘ সময় ধরে ভূগর্ভস্থ প্লেটের নড়াচড়ার কারণে এই চ্যুতিটি চারপাশের শিলাখণ্ডগুলোকে পুরোপুরি ভেঙে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিয়েছে, যার ফলে মাটির ভেতরের স্তরগুলোর ধারণক্ষমতা ও দৃঢ়তা নষ্ট হয়ে গেছে। এর ফলে এই ভঙ্গুর ভিত্তিটি ৬০ হাজার মেগাওয়াটের একটি দানবীয় বাঁধ এবং এর পেছনে জমা থাকা কোটি কোটি গ্যালন পানির ওজন ধরে রাখতে গিয়ে যেকোনো মুহূর্তে ধসে পড়তে পারে।

গবেষক দলটি আরও সতর্ক করেছে, তিব্বতের পার্বত্য অঞ্চলের ভূপ্রকৃতি আলগা এবং এর মাটির কণার ভেতরের বন্ধনও খুব দুর্বল। একবার যখন এই বিশাল জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের জলাধারে পানি পূর্ণ করা হবে, তখন দীর্ঘস্থায়ী জলীয় সম্পৃক্ততা, ফল্ট লাইনের অবিরত কম্পন এবং ভূমিকম্পের সম্মিলিত প্রভাবে জলাধারের দুই পাশের পাহাড়ে প্রলয়ংকরী ভূমিধস ঘটবে। এই ধরনের ধস সরাসরি বাঁধের মূল পরিকাঠামো ও সেখানে কর্মরত কর্মীদের জীবনকে চরম বিপন্ন করে তুলবে।

ব্রহ্মপুত্রে চীনের মেগা বাঁধে চিন্তিত ভারত—বাংলাদেশও কিব্রহ্মপুত্রে চীনের মেগা বাঁধে চিন্তিত ভারত—বাংলাদেশও কি
উল্লেখ্য, তিব্বততে গত বছর থেকে এই মেগা বাঁধের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে, যা বিদ্যুৎ উৎপাদনের দিক থেকে চীনের বর্তমান বিখ্যাত থ্রি গর্জেস বাঁধের চেয়েও তিন গুণ বড় এবং এর বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা ধরা হয়েছে ৩০০ বিলিয়ন কিলোওয়াট-ঘণ্টা। ইয়ারলুং সাংপো নদীটি তিব্বত ছেড়ে ভারতের অরুণাচল ও আসামের ওপর দিয়ে ব্রহ্মপুত্র নামে প্রবাহিত হয়ে বাংলাদেশে যমুনা নদী নামে প্রবেশ করেছে। ফলে ব্রহ্মপুত্রের ভাটিতে থাকা ভারত ও বাংলাদেশের জন্য এই মেগা বাঁধটি এখন একটি ‘ভূতাত্ত্বিক টাইম বোমা’ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

চীনা বিজ্ঞানীদের এই গবেষণা উদ্বেগ আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। তাঁরা বলছেন, এই বাঁধটি যেখানে নির্মিত হচ্ছে, সেই এলাকাটি মূলত হিমালয় সিসমিক বেল্ট বা ভূমিকম্প-প্রবণ অঞ্চলের ভেতরে অবস্থিত। এখানে চীন ও তার আশপাশের অঞ্চলের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী এবং ঘন ঘন ভূমিকম্প হয়ে থাকে। ভূগর্ভস্থ টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষের কারণে এই অঞ্চলে একটি স্থায়ী এবং শক্তিশালী ভূমিকম্পের বলয় তৈরি হয়েছে। গবেষকেরা কোয়াটারনারি যুগের (২৫.৮ লাখ বছর আগে থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত বিস্তৃত) টেকটোনিক নড়াচড়ার ইতিহাস বিশ্লেষণ করে দেখেছেন, এই পাইঝেন চ্যুতিটি প্লাইস্টোসিন যুগের শুরুতে সৃষ্টি হলেও বর্তমান হলোসিন যুগেও এটি তার সক্রিয়তা বজায় রেখেছে।

এ ছাড়া প্রাচীন হ্রদের তলানির কার্বন ডেটিং পরীক্ষা করে দেখা গেছে, মাত্র ৯ হাজার ৫০০ বছর আগেও ফাটলটি সক্রিয় ছিল। সর্বশেষ ২০১৭ সালে তিব্বতের মিলিনে আঘাত হানা ৬ দশমিক ৯ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পটি এই ফল্ট লাইনের উত্তর প্রান্তেই ঘটেছিল। তাই বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন, যেকোনো সময় এই অঞ্চলে মাঝারি বা বড় মাত্রার ভূমিকম্প হলে তা তাসের ঘরের মতো বাঁধটিকে গুঁড়িয়ে দেবে এবং এর ফলে সৃষ্ট কৃত্রিম বন্যা ও ভূমিধস পুরো হিমালয় অঞ্চলসহ ভাটির বিস্তীর্ণ জনপদকে মাটির নিচে চিরতরে চাপা দিয়ে দিতে পারে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-০২

মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।