পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মনু নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নদের বাধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করছে। এতে হরিপাশা, উজিরপুর, কান্দিরকুল, একামধু গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পাশের জনপদেও পানি প্রবেশ অব্যাহত রয়েছে।
দুইশ ফুটের এই ভাঙন দিয়ে পানি প্রবেশ করায় উপজেলার প্রায় ১৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। নদী ভাঙনের ফলে স্থানীয় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নিম্নাঞ্চলের মানুষের গবাদিপশু সহ জরুরি জিনিসপত্র নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাবার চেষ্টা করছেন। নদীর ভাঙনে ক্ষয়ক্ষতির মধ্যে পড়েছেন অসংখ্য মানুষ।
একামধু গ্রামের মখদ্দছ মিয়া ও আলী হোসেনের সঙ্গে এসময় তারা বলেন, বাড়িতে পানি উঠায় আমরা মনু নদের প্রতিরক্ষা বাঁধে আশ্রয় নিয়েছি। ছেলে সন্তানদের নিয়ে থাকার জায়গা না থাকায় এখানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হলাম। এখন কিভাবে খাওয়া দাওয়া হবে পরিবারের তার কিছুই জানি না।
কান্দিরকুল গ্রামের প্রীতি রানী ও ফয়জুন নেছা বেগম বলেন, বাঁধ ভেঙে আমাদের বসতবাড়িতে পানি ঢুকে গেছে। আমরা হাঁস মুরগি গবাদিপশু সহ জরুরি জিনিসপত্র নিয়ে এখানে আশ্রয় নিয়েছি।
মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে জেলার প্রধান নদীগুলোর মধ্যে মনু ও ধলাই নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। মনু নদীর রেলওয়ে এলাকায় বিপৎসীমার ৬৮ সেন্টিমিটার, মনু নদীর চাঁদনীঘাট অংশে বিপৎসীমার ৬৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে, ধলাই নদীর ৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া কুশিয়ারা নদীর ২২ সেন্টিমিটার ও জুড়ী নদীর পানি বিপৎসীমার ২৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
রাজনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিপুল সিকদার বলেন, যে স্থানে বাঁধ ভেঙেছে সেটা আটকানোর মতো অবস্থায় নেই। এলাকার মানুষকে মাইকিং করে সতর্ক করা হচ্ছে যাতে তারা গবাদিপশুসহ নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেয়।
তিনি বলেন, যদি বৃষ্টি হয় তাহলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বর্তমানে আমরা ক্ষতিগ্রস্থদের মধ্যে জেলা প্রশাসন থেকে পাওয়া শুকনো খাবার বিতরণের অব্যবস্থা করছি।
ডেস্ক রিপোর্ট