মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, ইরান আলোচনায় না ফিরলে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো—বিশেষ করে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু—লক্ষ্য করে আগামী সপ্তাহে হামলা চালানো হতে পারে। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, চলমান সামরিক চাপ আরও বাড়ানো হবে এবং পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যেতে পারে।
একটি সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, ইতোমধ্যেই ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় ধারাবাহিকভাবে হামলা চালানো হচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র উপকূলীয় এলাকা ও কৌশলগত স্থাপনাগুলোতে লক্ষ্যভিত্তিক আঘাত হানছে। তিনি বলেন, যতক্ষণ না তিনি ‘যথেষ্ট’ মনে করছেন, ততক্ষণ এ অভিযান চলবে।
জ্বালানি খাতকে লক্ষ্যবস্তু করা প্রসঙ্গে ট্রাম্প জানান, এসব গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত ধাপে থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন করা হতে পারে। তিনি আরও বলেন, যদি তেহরান আলোচনায় না বসে, তাহলে পর্যায়ক্রমে আরও কঠোর হামলা চালানো হবে, যার মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র ও সেতুগুলো অচল করে দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।
প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা নতুন করে বেড়েছে। বিশেষ করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, পারমাণবিক কর্মসূচি এবং মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব বিস্তার নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ আরও তীব্র হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে সামরিক ও কূটনৈতিক চাপ একসঙ্গে প্রয়োগের কৌশল দেখা যাচ্ছে।
এদিকে, একই দিনে ট্রাম্প হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপের পূর্বঘোষিত পরিকল্পনা থেকে সরে আসেন। এর পরিবর্তে তিনি উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগভিত্তিক সমঝোতার পথে এগোনোর কথা জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের নেতাদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
যদিও উপসাগরীয় দেশগুলোর পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট কোনো প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করা হয়নি, ট্রাম্প দাবি করেন, সম্ভাব্য বিনিয়োগ হবে ব্যাপক এবং তা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে। তিনি আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের জন্য আলোচনায় বসা ছাড়া বাস্তবসম্মত বিকল্প নেই এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা এখনো ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।
ডেস্ক রিপোর্ট