শেহবাজ শরিফের ১ কেজি স্বর্ণসহ সরকারি উপহার উঠছে নিলামে
কিরগিজস্তান থেকে পাওয়া স্বর্ণসহ প্রধানমন্ত্রীর তিন ডজনের বেশি উপহার বিক্রি করবে পাকিস্তান সরকার
- আপলোড সময় : ২৮-১০-২০২৬ ১০:২২:১২ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ২৮-১০-২০২৬ ১০:২৪:৪১ পূর্বাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ৪৮ বার পঠিত
ছবি— সংগৃহীত
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ কিরগিজস্তান থেকে উপহার পাওয়া ১ কেজি খাঁটি স্বর্ণসহ তিন ডজনেরও বেশি সরকারি উপহার তোষাখানায় জমা দিয়েছেন। এসব উপহার উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হবে। নিলাম থেকে পাওয়া অর্থ পাকিস্তানের পিছিয়ে পড়া অঞ্চলগুলোর মেয়েদের প্রাথমিক শিক্ষার প্রসারে ব্যয় করা হবে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) পাকিস্তানের ক্যাবিনেট ডিভিশনের প্রকাশিত নথির বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে গালফ নিউজ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৩১আগস্ট থেকে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কিরগিজস্তান সফরের সময় শেহবাজ শরিফকে ১ হাজার গ্রাম খাঁটি স্বর্ণের একটি বাক্স উপহার দেওয়া হয়। সফর শেষে ৮ সেপ্টেম্বর তিনি স্বর্ণটি তোষাখানায় জমা দেন।
প্রধানমন্ত্রীর জমা দেওয়া অন্যান্য উপহারের মধ্যে রয়েছে হাতে তৈরি রেশম ও পশমের কার্পেট, অলঙ্কৃত ফুলদানি, শোভাবর্ধক প্লেট, কাফলিঙ্ক, টাই, ক্যালিগ্রাফি, চিত্রকর্ম, রওজা-ই-রাসূল (সা.)-এর প্রতিকৃতি, টুপি, ঘড়ি, তসবিহ, গাড়ির মডেল, কম্বল, ক্রিস্টাল শিল্ড, বই, ওদ সুগন্ধি, অলিভ অয়েল, সাবান, স্কার্ফ এবং কাপ-পিরিচ।
একই সময়ে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারিও তোষাখানায় সাতটি উপহার জমা দিয়েছেন। এসব উপহারের মধ্যে রয়েছে কার্পেট, তিরন্দাজির সরঞ্জাম, বাদ্যযন্ত্র, ফয়সাল মসজিদের বাঁধাই করা ছবি, দাবার সেট এবং বিভিন্ন আলংকারিক সামগ্রী। এ ছাড়া উপপ্রধানমন্ত্রী ইশাক দার, অর্থমন্ত্রী মুহাম্মদ আওরঙ্গজেব এবং তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারারও তাঁদের পাওয়া উপহার তোষাখানায় জমা দিয়েছেন।
২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে জারি করা তোষাখানা (ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা অনুযায়ী, সরকারি কর্মকর্তাদের পাওয়া উপহার উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করতে হবে। এ থেকে প্রাপ্ত অর্থ পাকিস্তানের সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া অঞ্চলগুলোর মেয়েদের প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে নির্ধারিত পৃথক অ্যাকাউন্টে জমা রাখা হবে।
নতুন বিধিমালায় বলা হয়েছে, বিদেশ সফর থেকে ফেরার ৩০ দিনের মধ্যে সরকারি কর্মকর্তাদের প্রাপ্ত উপহার তোষাখানায় জমা দিতে হবে। উপহার আলাদাভাবে পাঠানো হলে তা জমা দেওয়ার সময়সীমা ৬০ দিন। কূটনৈতিক প্রটোকল বা সাংস্কৃতিক কারণে কোনো উপহার প্রত্যাখ্যান করা কঠিন হলেও তা তোষাখানায় জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক।
তোষাখানা পাকিস্তান সরকারের ক্যাবিনেট ডিভিশনের পরিচালনাধীন একটি রাষ্ট্রীয় তহবিল। বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান ও প্রতিনিধিদের কাছ থেকে সরকারি কর্মকর্তারা যেসব উপহার পান, সেগুলো সেখানে সংরক্ষণ করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট হিসাব রাখা হয়।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।