বিশ্ববাজারে টানা তিন সেশনে কমল স্বর্ণের দাম
যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির তথ্য ও সুদের হার নিয়ে অপেক্ষায় বিনিয়োগকারীরা
- আপলোড সময় : ১৪-১০-২০২৬ ১০:২০:১২ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ১৪-১০-২০২৬ ১০:২০:১২ অপরাহ্ন
- ৩ মিনিট পড়ার সময়
- ৭ বার পঠিত
সংগৃহীত ছবি
বিশ্ববাজারে টানা তৃতীয় সেশনে কমেছে স্বর্ণের দাম। বুধবার (১৪ অক্টোবর) জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং যুক্তরাষ্ট্রের নতুন মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের অপেক্ষায় বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানের মধ্যে মূল্যবান এই ধাতুর দরপতন হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী সুদের হারসংক্রান্ত সিদ্ধান্তের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা পেতে এসব তথ্যের দিকে নজর রাখছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ সময় বুধবার বিকেল ৫টা ২১ মিনিটে স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ০.৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৪০ দশমিক ৩৩ ডলারে দাঁড়ায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে ডিসেম্বর মাসে সরবরাহের জন্য স্বর্ণের ফিউচার দর ০.৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৬২ দশমিক ৮০ ডলারে নেমে আসে।
ফরেক্স ডটকমের বাজার বিশ্লেষক ফাওয়াদ রাজাকজাদা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা মূল্যসূচকের (সিপিআই) তথ্য প্রকাশের অপেক্ষায় অনেক ব্যবসায়ী আপাতত লেনদেন থেকে বিরত রয়েছেন। তাঁর মতে, এই প্রতিবেদন ডলারের গতিপথ, স্বর্ণের দাম এবং ডলারের সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য সম্পদের মূল্য নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের সিপিআই প্রতিবেদন গ্রিনিচ মান সময় দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে প্রকাশের কথা ছিল। এর পরদিন বৃহস্পতিবার দেশটিতে উৎপাদক মূল্যসূচক (পিপিআই) ও খুচরা বিক্রির তথ্য প্রকাশের কথা রয়েছে।
এদিকে, বুধবার হরমুজ প্রণালিতে দুটি জাহাজে হামলার পর আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। রয়টার্সকে ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করতে নতুন কৌশল ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেলের দাম উঁচু রাখা এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা থেকে তেহরান এমন পদক্ষেপ নিচ্ছে।
ফাওয়াদ রাজাকজাদা আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ডলারের ঊর্ধ্বগতি থেমে গেলে স্বর্ণের দাম বাড়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তাঁর ধারণা, বছরের পরবর্তী মাসগুলোতে স্বর্ণের দাম আবার প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে, এমনকি ৪ হাজার ৭০০ ডলারও ছাড়াতে পারে।
সাধারণত মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে সুরক্ষা হিসেবে স্বর্ণকে বিবেচনা করা হয়। তবে স্বর্ণ থেকে নিয়মিত সুদ বা আয় পাওয়া যায় না। ফলে সুদের হার বাড়লে স্বর্ণের মতো আয়বিহীন সম্পদে বিনিয়োগের আকর্ষণ কমে যেতে পারে।
নিউইয়র্ক ফেডের প্রেসিডেন্ট জন উইলিয়ামস আবারও বলেছেন, মূল্যস্ফীতি কমানোর লক্ষ্যে চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংককে আরও একবার সুদের হার বাড়াতে হতে পারে। সিএমইর ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে দেশটিতে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা প্রায় ২২ শতাংশ। ডিসেম্বরে হার বাড়ার সম্ভাবনা ৯০ শতাংশ বলে ধারণা করছেন বাজারের অংশগ্রহণকারীরা।
স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও বুধবার মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। স্পট মার্কেটে রুপার দাম ১.৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫৮ দশমিক ৫৭ ডলারে নেমেছে। প্লাটিনামের দাম ০.৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৬৫৩ দশমিক ১৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। বিপরীতে প্যালাডিয়ামের দাম ০.৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ১৩২ দশমিক ৭০ ডলারে পৌঁছেছে।
অন্যদিকে, দেশের বাজারে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সংগঠনটির নির্ধারিত নতুন দর অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৮ হাজার ৩১ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৭ হাজার ৭৬৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৭ হাজার ৩২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫২ হাজার ৭৯৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।