এক বছরে বিদেশি ব্যাংকের মুনাফা কমেছে ৪৯৪ কোটি টাকা
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুন শেষে বিদেশি ব্যাংকগুলোর আমানত দাঁড়িয়েছে ৮৭ হাজার ৩৭৯ কোটি টাকা, আর সম্মিলিত মুনাফা নেমেছে ২ হাজার ৩২২ কোটি টাকায়।
- আপলোড সময় : ১৪-১০-২০২৬ ০৯:৫৭:৩৫ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ১৪-১০-২০২৬ ০৯:৫৭:৩৫ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ১৪ বার পঠিত
ছবি—সংগৃহীত
বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংক প্রকাশিত ‘বাংলাদেশে বিদেশি ব্যাংকের কার্যক্রম: প্রবণতা ও পরিচালনাগত বিশ্লেষণ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। এতে বিদেশি ব্যাংকগুলোর আমানত, ঋণ, বিনিয়োগ ও মুনাফাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের জুনের শেষে বিদেশি ব্যাংকগুলোর মোট আমানত দাঁড়িয়েছে ৮৭ হাজার ৩৭৯ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ৮৭ হাজার ৪৯০ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরে আমানত কমেছে ১১১ কোটি টাকা।
একই সময়ে ব্যাংকগুলোর সম্মিলিত মুনাফা ২ হাজার ৮১৬ কোটি টাকা থেকে কমে ২ হাজার ৩২২ কোটি টাকায় নেমেছে। ফলে এক বছরে মুনাফা কমেছে ৪৯৪ কোটি টাকা। তবে আমানত ও মুনাফা কমে যাওয়ার কারণ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
বাংলাদেশে বর্তমানে নয়টি বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংক ৬৭টি শাখা ও ছয়টি উপশাখার মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ব্যাংকগুলো হলো এইচএসবিসি, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশ, সিটিব্যাংক এনএ, কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলন, উরি ব্যাংক, স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া, হাবিব ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান ও ব্যাংক আলফালাহ।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদেশি ব্যাংকগুলোর আমানতের বড় অংশ রয়েছে কম সুদের চলতি ও সঞ্চয়ী হিসাবে। গত জুনের শেষে এসব হিসাবে আমানতের পরিমাণ ছিল ৩২ হাজার ৮০১ কোটি টাকা। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৭ হাজার ৮৮ কোটি টাকা জমা ছিল বিদেশি মুদ্রায় খোলা হিসাবে। এ ছাড়া মেয়াদি বা স্থায়ী আমানতের পরিমাণ ছিল ১২ হাজার ৬৬৫ কোটি টাকা।
সাধারণত মেয়াদি আমানতে সুদের হার তুলনামূলক বেশি হলেও বিদেশি ব্যাংকগুলোতে এ ধরনের আমানতের পরিমাণ কম। অন্যদিকে, কম সুদের আমানত বেশি থাকা সত্ত্বেও ঋণ বিতরণে ব্যাংকগুলো তুলনামূলক সংযত অবস্থানে রয়েছে।
গত জুনের শেষে বিদেশি ব্যাংকগুলোর সম্মিলিত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ৪৮ হাজার ৩৫৫ কোটি টাকা। সে হিসাবে এক বছরে ঋণ বেড়েছে ৩৪৯ কোটি টাকা।
বিদেশি ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা ঋণের বড় অংশ গেছে শিল্প খাতে। গত জুনের শেষে এ খাতে ঋণের পরিমাণ ছিল ২৫ হাজার ৪০৩ কোটি টাকা। বিপরীতে পরিবহন ও নির্মাণ খাতে ঋণ বিতরণের পরিমাণ ছিল তুলনামূলক কম। পরিবহন খাতে ঋণের পরিমাণ ছিল মাত্র ১০ কোটি টাকা এবং নির্মাণ খাতে ৪২৮ কোটি টাকা।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।