স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে দায়িত্বে রেখে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তাঁর অভিযোগ, সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনায় প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৬ আগস্টের পর থেকে বিএনপির বিরুদ্ধে যে নৈরাজ্য, দখলদারি, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে, তার ধারাবাহিকতা এখনো চলছে বলে তারা মনে করেন। মিরপুরের রাড্ডা সেন্টার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে ভাঙচুরের ঘটনাকে এর উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য বর্তমান সরকার, প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দায়ী মনে করে এনসিপি। তাঁর দাবি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দায়িত্বে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব নয়।
মিরপুরের রাড্ডা সেন্টারে হামলা ও ভাঙচুরের প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, স্থানীয় বিএনপির সংশ্লিষ্টতা এবং একজন সংরক্ষিত সংসদ সদস্যের নাম এসেছে। তাঁর দাবি, পুলিশ প্রশাসনের নীরবতা বা সহযোগিতা ছাড়া রাজধানীতে রাতের বেলা দীর্ঘ সময় ধরে এ ধরনের ঘটনা ঘটানো সম্ভব নয়। এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য তিনি উল্লেখ করেননি।
সারাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন এনসিপির এই নেতা। তিনি হবিগঞ্জে সিএনজি বা অটোরিকশা স্ট্যান্ড দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ এবং সাভারে মাদরাসা দখলের চেষ্টার মতো ঘটনাগুলোর কথা উল্লেখ করেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা বাস্তবে দেখা যাচ্ছে না বলে তারা মনে করেন। তাঁর অভিযোগ, বিএনপি তাদের দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না এবং প্রশাসনের সহযোগিতায় বিভিন্ন স্থানে দখল-বাণিজ্য চলছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন নাহিদ ইসলাম। একই সঙ্গে সংসদে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিভিন্ন বক্তব্যের মাধ্যমে মূল বিষয় এড়িয়ে গেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এনসিপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশে নাহিদ ইসলাম বলেন, যেখানে দখলদারি, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের ঘটনা ঘটছে, সেখানে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।