চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের পর চালক রুমন আলীকে হত্যার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নিখোঁজের তিন দিন পর পুটিমারী বিলের একটি আখ ক্ষেত থেকে তার পচাগলা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে ছিনতাই হওয়া অটোরিকশাটিও উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ২৮ আগস্ট দুপুরে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস এসব তথ্য জানান।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন শিবগঞ্জ উপজেলার সেলিমাবাদ খান পাড়া গ্রামের ওয়াসিম ওরফে অসিম, বিশ্বনাথপুর গ্রামের রফিকুল আলম এবং বাগদুর্গাপুর কলকলিয়া গ্রামের ওমর ফারুক।
পুলিশ জানায়, গত ২১ আগস্ট ভোর সাড়ে ৫টার দিকে রুমন নিজ বাড়ি থেকে অটোরিকশা নিয়ে বের হন। এরপর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। পরদিন তার পালিত পিতা শিবগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।
তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তি ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে ২৩ আগস্ট ওয়াসিম ওরফে অসিম এবং রফিকুল আলমকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা অটোরিকশাটি ছিনতাই করে বিক্রির সঙ্গে জড়িত থাকার কথা জানায় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশ সুপার জানান, ছিনতাই করা অটোরিকশাটি ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দাম নির্ধারণ করে ৭০ হাজার টাকায় ওমর ফারুকের কাছে বিক্রি করা হয়। পরে তার বাড়ি থেকে অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয় এবং তাকেও গ্রেফতার করা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী নাজমা সুলতানা বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলায় গ্রেফতার তিনজনকে তিন দিনের পুলিশ রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।
পরে ওয়াসিমের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ২৬ আগস্ট বিকেল পৌনে ৬টার দিকে স্থানীয়দের সহায়তায় পুটিমারী বিলের একটি আখ ক্ষেত থেকে রুমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরনের প্যান্ট, কোমরের বেল্ট, এক পায়ের স্যান্ডেল ও মোবাইল ফোন দেখে মরদেহটি রুমনের বলে শনাক্ত করেন তার স্ত্রী।
পুলিশ ঘটনাস্থল ও আসামিদের কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া অটোরিকশা, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কাঠের বাটযুক্ত ছোট ধারালো হাসুয়া, সাদা কালো এক জোড়া স্যান্ডেল, রক্তের দাগযুক্ত মাটি এবং ভিকটিম ও আসামিদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে।