নতুন এই রেল যোগাযোগের ফলে কম খরচে নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াতের পাশাপাশি গোপালগঞ্জের ব্যবসা-বাণিজ্য ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে গতি আসবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।
দীর্ঘদিন ধরে সড়কপথে দুর্ঘটনার ঝুঁকি, যানজট, বেশি ভাড়া এবং সময়ের অপচয় মেনেই ঢাকায় যাতায়াত করতে হতো গোপালগঞ্জের বাসিন্দাদের। নতুন ট্রেন সার্ভিস চালু হলে এসব ভোগান্তি অনেকটাই কমবে বলে মনে করছেন যাত্রীরা।
শুধু গোপালগঞ্জ নয়, রেল যোগাযোগের এই সুবিধা পাবেন পার্শ্ববর্তী পিরোজপুর ও বাগেরহাটের মানুষও। তবে ট্রেনের সময়সূচি আরও পরিবর্তন করা হলে জেলার মানুষ বেশি উপকৃত হতেন বলে মত স্থানীয়দের।
গোপালগঞ্জ কৃষিপ্রধান এলাকা হওয়ায় এখানকার বিপুল পরিমাণ শাক-সবজি, দেশীয় মাছসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য ট্রেনে কম খরচে রাজধানীতে পাঠানো সম্ভব হবে। এতে কৃষকরা ঢাকার বাজারে পণ্য বিক্রি করে তুলনামূলক ভালো দাম পাবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে স্থানীয় অর্থনীতিতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১০ আগস্ট দুপুর ৩টা ১৩ মিনিটে ‘অভিযাত্রী কমিউটার’ ঢাকা থেকে গোপালগঞ্জের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে। ট্রেনটি গোপালগঞ্জে পৌঁছাবে সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে।
ফেরার পথে ট্রেনটি গোপালগঞ্জ থেকে সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে ছেড়ে ঢাকায় পৌঁছাবে রাত ১০টা ২৫ মিনিটে।
ট্রেন চালুর উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন গোপালগঞ্জের সর্বস্তরের মানুষ। তাদের আশা, নতুন এই রেলসেবা শুধু যাতায়াতের ভোগান্তি কমাবে না, বরং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও নতুন গতি আনবে।
এদিকে ঢাকা-গোপালগঞ্জ-ঢাকা রুটে ‘অভিযাত্রী কমিউটার’ ট্রেনের আনুষ্ঠানিক যাত্রা উপলক্ষে কাশিয়ানী উপজেলার মহেশপুর নতুন রেলস্টেশনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য সেলিমুজ্জামান সেলিম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর।
ডেস্ক রিপোর্ট