৫০ লাখ মুক্তিপণ দাবি, ৫ লাখ টাকা দিয়ে বাড়ি ফিরলেন টেকনাফের দর্জি
তিন দিন নিখোঁজের পর পাহাড়ি এলাকা থেকে ফেরার দাবি, তদন্তে পুলিশ
- আপলোড সময় : ০৯-০৮-২০২৬ ০৯:৪১:৩৩ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৯-০৮-২০২৬ ০৯:৪১:৩৩ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ১৫৩ বার পঠিত
ছবি সংগৃহীত
কক্সবাজারের টেকনাফে নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে বাড়ি ফিরেছেন দর্জি মোস্তাক আহমদ (৩১)। পরিবারের দাবি, অপহরণকারীরা তার মুক্তির বিনিময়ে প্রথমে ৫০ লাখ টাকা দাবি করেছিল। পরে ৫ লাখ টাকা দেওয়ার পর শনিবার রাতে বাহারছড়ার একটি পাহাড়ি এলাকা থেকে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
মোস্তাক হ্নীলা ইউনিয়নের পূর্ব পানখালী ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত আব্দুস শুক্কুরের ছেলে। হ্নীলা বাজারে তার একটি দর্জির দোকান রয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৫ আগস্ট দুপুর ২টার দিকে হ্নীলা কাঁচাবাজার থেকে নিখোঁজ হন মোস্তাক। ওই দিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে পরিবারের কাছে ফোন করে তাকে অপহরণের কথা জানানো হয়। এরপর বিভিন্ন সময়ে ফোন করে ৫০ লাখ ও ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরে একপর্যায়ে ৫ লাখ টাকায় বিষয়টি চূড়ান্ত হয় বলে পরিবারের দাবি।
মোস্তাকের স্ত্রী হোসনে আরা বেগম জানান, কথিত অপহরণকারীদের নির্দেশ অনুযায়ী তার বোনজামাই বাহারছড়ার একটি পাহাড়ি এলাকায় গিয়ে নির্দিষ্ট স্থানে ৫ লাখ টাকা রেখে আসেন। টাকা নেওয়ার পর অন্য একটি স্থান থেকে মোস্তাককে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে তিনি জানান।
হোসনে আরার দাবি, বাড়ি ফেরার পর মোস্তাকের শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন দেখা গেছে এবং বর্তমানে তিনি স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারছেন না।
পরিবারের কাছে থাকা একটি অডিও রেকর্ডে কথিত অপহরণকারীদের মোস্তাককে হত্যার হুমকি দিতে শোনা গেছে বলে দাবি স্বজনদের। তাদের দাবি, ওই কথোপকথনে ৫০ লাখ টাকা না দিলে তাকে হত্যার কথা বলা হয়। এমনকি একজন মোস্তাককে হত্যার জন্য ৩০ লাখ টাকা দেওয়ার কথা বলেছে বলেও দাবি পরিবারের।
পরিবারের সদস্যরা জানান, কথিত অপহরণকারীদের হুমকির কারণে তারা বিষয়টি গোপন রাখেন। মোস্তাককে উদ্ধারের জন্য তার স্ত্রী টাকা সংগ্রহের চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে গহনা বিক্রি করে টাকা জোগাড় করার কথাও মোস্তাক তাকে বলেছিলেন বলে জানান তিনি।
তিন দিন পর মোস্তাক বাড়ি ফিরলেও কারা তাকে নিয়ে গিয়েছিল এবং কী কারণে ঘটনাটি ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম জানান, মোস্তাক নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। তবে তিনি কথিত অপহরণকারীদের কাছ থেকে ফিরে এসেছেন, এমন কোনো তথ্য পুলিশের কাছে নেই। তাকে কেউ অপহরণ করেছিল কি না, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং নিখোঁজ হওয়ার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।