রাঙ্গামাটির কাপ্তাই উপজেলার পুরনো এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। দুর্গম বিভিন্ন এলাকা থেকে শিক্ষার্থীরা এখানে পড়াশোনা করতে আসেন। বর্তমানে কলেজটিতে প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন।
২০১৮ সালে তৎকালীন সরকার বিশেষ সিদ্ধান্তে সারা দেশের ৩০০টি কলেজ জাতীয়করণ করে। দীর্ঘদিনের দাবির পর ওই সময় কর্ণফুলী ডিগ্রি কলেজও সরকারি করা হয়। জাতীয়করণের সময় কলেজটির জন্য ৪১টি পদ আত্তীকরণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখনো সেই প্রক্রিয়া শেষ হয়নি। ফলে প্রয়োজনীয় জনবল ছাড়াই কলেজের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে।
কলেজ কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সরকারিভাবে ১২ জন শিক্ষক, একজন শরীরচর্চা শিক্ষক, একজন লাইব্রেরিয়ান ও দুজন অফিস সহায়ক কর্মরত আছেন। দীর্ঘদিন ধরে অন্যান্য পদ শূন্য রয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কলেজের নিজস্ব অর্থায়নে কয়েকজন খণ্ডকালীন শিক্ষক ও অফিস সহায়ক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাদের বেতন ও ভাতা বাবদ প্রতি মাসে প্রায় ২ লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছে, যা কলেজের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি করছে।
কর্ণফুলী সরকারি ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ সিরাজ উদ্দীন বলেন, কলেজটি সরকারি হওয়ার পর শিক্ষক ও জনবল সংকট দূর হবে বলে আশা করা হয়েছিল। কিন্তু ৪১টি পদের নিয়োগ এখনো সম্পন্ন না হওয়ায় দাপ্তরিক ও একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনায় নানা জটিলতা তৈরি হচ্ছে।
তিনি বলেন, পাহাড়ি প্রত্যন্ত এলাকায় মানসম্মত শিক্ষক পাওয়া কঠিন। তাই বাইরে থেকে শিক্ষক এনে ক্লাস পরিচালনা করতে হচ্ছে, এতে অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে। এর মধ্যে অধিকাংশ শিক্ষক ও কর্মচারী অবসরে বা পিআরএলে চলে যাওয়ায় জনবল সংকট আরও বেড়েছে। বর্তমানে কর্মরত ১২ জন শিক্ষকের মধ্যে দুজন আগামী আগস্টে অবসরে যাবেন বলেও জানান তিনি। এতে শিক্ষা কার্যক্রম আরও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কাপ্তাই প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ঝুলন দত্ত বলেন, কর্ণফুলী ডিগ্রি কলেজ উপজেলার অন্যতম প্রধান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। দুর্গম বিভিন্ন এলাকা থেকে শিক্ষার্থীরা এখানে পড়তে আসে। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক ও কর্মকর্তা কর্মচারীর সংকটে থাকা প্রতিষ্ঠানটির সমস্যা দ্রুত সমাধানে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
কাপ্তাই উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মো. দিলদার হোসেন বলেন, কলেজটি জাতীয়করণ করা হলেও শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও অবকাঠামোগত নানা সমস্যা রয়ে গেছে। বিষয়গুলো সরকারের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে। এসব সংকট দূর করা গেলে কাপ্তাইয়ে শিক্ষার প্রসারে কলেজটি আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।
ডেস্ক রিপোর্ট