ঢাকা , বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬ , ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ (হেমন্তকাল) , ১৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
সংবাদ শিরোনাম :
৪৬ বছর পর ফিরছে গ্রাম সরকার, থাকছে ১৭ সদস্য খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার মামলায় সোহাগের ৩ দিনের রিমান্ড রমজান সামনে রেখে বাড়ছে নিত্যপণ্যের আমদানি, কমেছে কয়েকটির দাম অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ইউনিয়ন পরিষদ পুনর্গঠন ও বিভক্তকরণ সাংবাদিকদের নিয়ে মন্তব্য, এনায়েতুল্লাহ আব্বাসীকে আইনি নোটিশ শুধু আইনে সড়ক নিরাপদ হবে না, প্রয়োজন কার্যকর প্রয়োগ: ইলিয়াস কাঞ্চন টঙ্গীতে ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ, শিক্ষক গ্রেপ্তার দিল্লি এড়িয়ে রুবিওর ভারত সফর, বদলাচ্ছে সম্পর্কের সমীকরণ ৯৭ শতাংশ কাজ শেষ, তবু বাতিল বিআরটি প্রকল্প রাজধানীর যানজট নিরসনে সরকারের চার বড় উদ্যোগ ইউনিসেফের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে চায় বাংলাদেশ সরকার লাওসে চীনের নতুন সামরিক ঘাঁটি, বাড়ছে আঞ্চলিক উদ্বেগ সোনা-হীরা চোরাচালান মামলায় দিলীপ আগরওয়ালার এক দিনের রিমান্ড হাইকোর্টে অগ্নিনিরাপত্তা প্রশিক্ষণ ও উদ্ধার মহড়া বাংলাদেশে ভয়াবহ হামের প্রাদুর্ভাব, বিশ্বের জন্য সতর্কবার্তা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: দেশের অগ্রগতির মূল চালিকাশক্তি যুবসমাজ ডেঙ্গু প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর নভেম্বরের মধ্যে রূপপুর থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে মক্কায় মসজিদের ভেতরে ‘অনৈতিক কাজ’ করার দায়ে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড মাদক, কিশোর গ্যাং ও র‍্যাগ ডে রোধে মাউশির নির্দেশ

জাপানে ইসলামের ইতিহাস ও ঐতিহ্য: শতাব্দীর প্রাচীন কোবে মসজিদ

প্রযুক্তি ও আধুনিকতার দেশ জাপানে মুসলমানদের শতাব্দীপ্রাচীন ইতিহাস, সাংস্কৃতিক সহাবস্থান এবং দেশটির প্রথম ঐতিহাসিক কোবে মসজিদের টিকে থাকার এক অনুপ্রেরণাদায়ক উপাখ্যান।

নিউজটি শুনুন
  • আপলোড সময় : ২৯-০৭-২০২৬ ০১:২২:১৮ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৯-০৭-২০২৬ ০১:২২:১৮ অপরাহ্ন
  • ২ মিনিট পড়ার সময়
  • ১৩৮ বার পঠিত
জাপানে ইসলামের ইতিহাস ও ঐতিহ্য: শতাব্দীর প্রাচীন কোবে মসজিদ ছবি: সংগৃহীত
প্রযুক্তি, শিল্পোন্নয়ন ও আধুনিকতার জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত জাপান। বৌদ্ধ ও শিন্তো ধর্মাবলম্বীদের সংখ্যাধিক্যের এই দেশে মুসলমানদের সংখ্যা তুলনামূলক কম হলেও ইসলামের ইতিহাস সেখানে এক শতাব্দীরও বেশি পুরোনো।
 
আজকের জাপানে ইসলাম শুধু একটি ধর্মীয় পরিচয় নয়; বরং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য, সহাবস্থান ও আন্তধর্মীয় সম্প্রীতিরও এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
জাপানে বর্তমানে প্রায় লক্ষাধিক মুসলমান বসবাস করেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ অভিবাসী হলেও জাপানি বংশোদ্ভূত মুসলমানের সংখ্যাও ক্রমেই বাড়ছে। এই মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক পরিচয়ের অন্যতম প্রধান প্রতীক হলো ঐতিহাসিক ‘কোবে মসজিদ’—যা জাপানের প্রথম স্থায়ী মসজিদ হিসেবে ইতিহাসে অমর হয়ে আছে।
 
ইতিহাসবিদদের মতে, উনিশ শতকের শেষভাগে মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে জাপানের বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়তে শুরু করে। পরবর্তীকালে ভারত, তুরস্ক, তাতার ও চীনের মুসলিম ব্যবসায়ী এবং অভিবাসীরা জাপানে বসতি স্থাপন করলে সেখানে ইসলামের পরিচিতি ও প্রসার আরও বিস্তৃত হয়। তাঁদের উদ্যোগেই কোরআনের অনুবাদ, ইসলামী গ্রন্থ প্রকাশ এবং ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের ভিত্তি গড়ে ওঠে। তারপর ক্রমবর্ধমান মুসলিম জনগোষ্ঠীর জন্য একটি স্থায়ী ইবাদতখানার প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হলে ১৯২৮ সালে কোবে শহরে মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
 
জাপানে বসবাসরত দেশি-বিদেশি মুসলিম ব্যবসায়ী ও সমাজসেবীরা আন্তরিক প্রচেষ্টায় অর্থ সংগ্রহ করেন এবং নির্মাণকাজ শুরু করেন।
 
দীর্ঘ কয়েক বছরের শ্রম ও পরিকল্পনার পর ১৯৩৫ সালে নির্মাণ সম্পন্ন হয় কোবে মসজিদ। তুর্কি-অটোমান স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত এই মসজিদটি দৃষ্টিনন্দন গম্বুজ, সুউচ্চ মিনার ও নান্দনিক নকশার কারণে দ্রুতই জাপানে ইসলামী স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শনে পরিণত হয়। ১৯৩৫ সালের ২ আগস্ট, শুক্রবার পবিত্র জুমার নামাজ আদায়ের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মসজিদটির কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর থেকে এটি শুধু নামাজের স্থানই নয়; বরং ইসলামী শিক্ষা, দাওয়াহ, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের মিলনকেন্দ্র হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
 
কোবে মসজিদের ইতিহাসকে আরও গৌরবান্বিত করেছে এর অবিশ্বাস্য টিকে থাকার গল্প। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় কোবে শহর ব্যাপক বিমান হামলার শিকার হলেও মসজিদটি অক্ষত থাকে। আবার ১৯৯৫ সালের ভয়াবহ গ্রেট হানশিন (কোবে) ভূমিকম্পেও আশপাশের বহু ভবন ধ্বংস হলেও এই ঐতিহাসিক মসজিদ দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে থাকে। ফলে এটি মুসলমানদের কাছে শুধু একটি উপাসনালয় নয়, বরং এটি ইতিহাসের এক গৌরবময় স্মারক হিসেবেও পরিচিত।
 
বর্তমানে কোবে মসজিদে নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, জুমা, ঈদের জামাত, কোরআন শিক্ষা, ইসলাম পরিচিতিমূলক সেমিনার এবং বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত মুসলিম পর্যটক ও গবেষকরাও জাপানের ইসলামী ইতিহাসের সাক্ষী হতে এই মসজিদ পরিদর্শন করেন। প্রযুক্তির উৎকর্ষে বিশ্বকে নেতৃত্ব দেওয়া জাপানের বুকে দাঁড়িয়ে থাকা ঐতিহাসিক কোবে মসজিদ প্রমাণ করে—সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় সহাবস্থানের ইতিহাসে ইসলামও জাপানের একটি অবিচ্ছেদ্য অধ্যায়।

নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-০২

মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।