ইরান নিয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পিত আলোচনার মূল বিষয়গুলো প্রকাশ্যে চলে আসায় ট্রাম্প বিরুক্তি প্রকাশ করেন, যা দুই নেতার মধ্যকার সম্পর্কের টানাপোড়েনের নতুন লক্ষণকেই সামনে এনেছে।
মঙ্গলবার ওভাল অফিসে এই দুই নেতার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যৌথভাবে ইরান যুদ্ধ শুরু করার পর এটিই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নেতার প্রথম মুখোমুখি বৈঠক।
নেতানিয়াহু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে ইরানের অন্যতম প্রধান পারমাণবিক কেন্দ্রের কাছে মাটির গভীরে অবস্থিত সুরক্ষিত স্থাপনা পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন নিয়ে কথা বলতে চেয়েছিলেন- এমন প্রতিবেদন সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প নেতানিয়াহুর ডাকনাম ধরে বলেন, “বিবি আমাকে সেটা বলার কোনও দরকার নেই। বিবি আমাকে এই বিষয়ে বলছেন কারণ তিনি আমাকে এ বিষয়ে জড়িত রাখতে চান।“
ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস টক প্রোগ্রামে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, "আপনি (বিবি) সেটি কেবল আমাকে কেন সরাসরি বলেন না? আপনি কেন এটি বিশ্বকে জানালেন?”
ট্রাম্প আরও বলেন, “পিকঅ্যাক্সে কী হচ্ছে, তা আমি জানি। এটি বড় কোনো সমস্যা নয়।
দ্য নিউ ইয়র্ক পোস্ট পত্রিকা সোমবার এক প্রতিবেদনে জেরুজালেমের এক সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছিল, বৈঠকে নেতানিয়াহু মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ইরানের পিকঅ্যাক্স মাইন্টেনে পারমাণবিক স্থাপনা গড়ার বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য দিতে চেয়েছেন এবং ইরান শান্তি চুক্তি করা নিয়ে মিথ্যা বলছে বলেও জানাতে চেয়েছেন।
বৈঠকের ছবিতে ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর হাসিমুখ:
বৈঠকের আগে নেতানিয়াহুকে নিয়ে ট্রাম্প হতাশা প্রকাশ করলেও বৈঠকে পাশাপাশি বসা দুই নেতার হাসিমুখের ছবিই সামনে এসেছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে এক্সে প্রকাশিত ছবিতে দুই নেতাকে বেশ হাস্যোজ্জ্বল ও ঘনিষ্ঠ দেখা যায়। বৈঠকে তাদের সঙ্গে ছিলেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ।
ট্রাম্প আগে ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করার পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেন।
দুই বৈঠকই ইতিবাচক এবং ফলপ্রসূ হয়েছে বলে জানিয়েছেন, হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র ক্যরোলিন লেভিট।
এমন সময় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে যখন ট্রাম্প এবং নেতানিয়াহু দুই নেতাই নিজ নিজ দেশে রাজনৈতিক চাপের মুখে রয়েছেন। সামনে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চাপে রয়েছেন নেতানিয়াহু।
বৈঠক সম্পর্কে জানেন এমন একজন বলেছেন, নেতানিয়াহুর আলোচনার লক্ষ্য ইসরায়েলের আগামী ২৭ অক্টোবরের ভোটে আবার নির্বাচিত হওয়ার জন্য ট্রাম্পের সমর্থন লাভ করা।
এছাড়াও, তাদের আলোচনার বিষয়ের মধ্যে ছিল ইরান এবং লেবানন প্রসঙ্গ এবং আব্রাহাম চুক্তির প্রসঙ্গ।
একসময় ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর সম্পর্ককে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে দেখা হত। নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে ইসরায়েলের জন্য হোয়াইট হাউজের সবচেয়ে বড় বন্ধুদের একজন বলে উল্লেখ করেছিলেন। তবে ইরান যুদ্ধ ঘিরে দুই নেতার মধ্যে কিছু মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করতে কূটনৈতিক সমাধানের পথে এগোতে চাইছে বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে, নেতানিয়াহু ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক চাপ অব্যাহত রাখতে আগ্রহী।
এবার হোয়াইট হাউজে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর বৈঠকের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরান যুদ্ধ চালিয়ে যাবে নাকি নতুন কোনও সমঝোতার পথে যাবে, তা এখনও অনিশ্চিত।
ডেস্ক রিপোর্ট