শুক্রবার সকাল থেকেই শিয়ালদহ স্টেশন এলাকায় শিক্ষার্থীদের জমায়েত শুরু হয়। সময়ের সঙ্গে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও মিছিলে অংশ নেন। শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলার দিকে অগ্রসর হওয়া মিছিল রাজপথজুড়ে দীর্ঘ জনসমাগমের সৃষ্টি করে।
মিছিলজুড়ে অংশগ্রহণকারীদের হাতে ছিল বিভিন্ন দাবিসংবলিত ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড। কেউ কেউ মুখোশ পরে বিক্ষোভে অংশ নেন। বিভিন্ন স্লোগানে মুখরিত হয় পুরো কর্মসূচি। আন্দোলনকারীরা বলেন, দিল্লিতে চলমান ছাত্র আন্দোলন কেবল একটি শহরের বিষয় নয়, বরং দেশের লাখো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যতের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিক্ষার্থীদেরও এ বিষয়ে সক্রিয় ভূমিকা রাখা প্রয়োজন।
আন্দোলনে অংশ নেওয়া কয়েকটি সংগঠন পৃথকভাবে কর্মসূচির অনুমতি চাইলেও পুলিশ তা অনুমোদন দেয়নি। পরে তারা বাম ছাত্র সংগঠনগুলোর ঘোষিত মিছিলে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এতে বিভিন্ন সংগঠনের কর্মী ও সমর্থকদের অংশগ্রহণে কর্মসূচিটি আরও বড় পরিসরে রূপ নেয়। একই সঙ্গে দিল্লিতে আন্দোলনরত সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের অনশন কর্মসূচির প্রতিও সংহতি প্রকাশ করা হয়।
বক্তারা বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি জনআস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হলে সাম্প্রতিক অনিয়মের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা এবং পরীক্ষা পরিচালনায় পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। মিছিলকে কেন্দ্র করে শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। তবে কোথাও বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি এবং শান্তিপূর্ণভাবেই কর্মসূচি শেষ হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে কলকাতায় এত বড় ছাত্রসমাবেশ বিরল। দিল্লির আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে বিভিন্ন মত ও সংগঠনের শিক্ষার্থীদের এক প্ল্যাটফর্মে আসা ভবিষ্যতে আন্দোলনের বিস্তৃতির ইঙ্গিত বহন করতে পারে। আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ধারাবাহিক কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন তারা।
ডেস্ক রিপোর্ট