দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র খুলনা নদীবন্দর ও নওয়াপাড়া নদীবন্দর ক্রমেই কার্যক্ষমতা হারাচ্ছে। নাব্য সংকট, ভাঙা ঘাট, নিরাপদ জেটির অভাব এবং দুর্বল অবকাঠামোর কারণে কমে গেছে জাহাজ আগমন ও পণ্য খালাস—যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও আঞ্চলিক অর্থনীতিতে।
মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ভৈরব নদীপথে সার, কয়লা, পাথরসহ বিভিন্ন পণ্য লাইটারেজ জাহাজে খুলনা ও নওয়াপাড়ায় আনা হয়। কিন্তু নদীর নাব্য কমে যাওয়ায় বড় জাহাজ নিরাপদে ভিড়তে পারছে না। অনেক ক্ষেত্রে জাহাজকে ১০–১৫ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে ঘাটের জন্য। ভাটার সময় পানির স্তর কমে গেলে জাহাজ আটকে পড়ার ঘটনাও ঘটছে।
খুলনা অঞ্চলের বিভিন্ন ঘাটে ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। কোথাও ঘাট ধসে পড়েছে, কোথাও জাহাজ ভেড়ানো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত জেটি ও ওপেন ইয়ার্ডের অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে। ফলে পণ্য খালাস প্রক্রিয়া ধীর হয়ে পড়ছে এবং পরিবহন ব্যয় বাড়ছে।
নৌ-পরিবহন সংশ্লিষ্টদের মতে, গত দুই বছরে জাহাজ আগমন ও পণ্য খালাস প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। এর পেছনে মোংলা সমুদ্রবন্দর-এ আমদানি কমে যাওয়াও একটি কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। এতে ব্যবসায়ীদের খরচ বেড়েছে এবং সময়ক্ষেপণের কারণে আর্থিক ঝুঁকিও বাড়ছে।
একসময় যেখানে দুই হাজারের বেশি শ্রমিক কাজ করতেন, এখন সেই সংখ্যা ৫০০-এর নিচে নেমে এসেছে। অনেক শ্রমিক কাজ না পেয়ে অন্য পেশায় চলে গেছেন। যারা আছেন, তাদেরও মাসের অর্ধেক সময় বেকার থাকতে হচ্ছে। এতে তাদের জীবিকা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
বিশেষজ্ঞ ও বন্দর ব্যবহারকারীরা বলছেন, দ্রুত ড্রেজিং, নিরাপদ জেটি নির্মাণ, ঘাট সংস্কার এবং আধুনিক কার্গো হ্যান্ডলিং ব্যবস্থা নিশ্চিত না করলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নদীর নাব্য উন্নয়ন ও অবকাঠামো আধুনিকায়নে বিভিন্ন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে বন্দরের সক্ষমতা বাড়বে।
সর্বশেষ অর্থবছরে খুলনা নদীবন্দর থেকে প্রায় সাড়ে ১২ কোটি টাকা এবং নওয়াপাড়া থেকে প্রায় ৪ কোটি ৭১ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করে বলছেন, অবকাঠামোগত দুর্বলতা দূর না হলে ভবিষ্যতে এই আয়ও কমে যেতে পারে।
নাব্য সংকট ও অব্যবস্থাপনার কারণে খুলনা অঞ্চলের নদীবন্দরগুলো ধীরে ধীরে কার্যক্ষমতা হারাচ্ছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে এর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
ডেস্ক রিপোর্ট