ঢাকা , রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ২২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ (শরৎকাল) , ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
সংবাদ শিরোনাম :
মালয়েশিয়ার সারাওয়াকে বিপজ্জনক ধোঁয়াশায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা ব্যাংক রেজল্যুশন আইনের বিতর্কিত ধারা বাতিলের সুপারিশ বিদ্যুৎ পরিস্থিতি সামাল দিতে না পেরে মন্ত্রী আইসিইউতে : আসিফ মাহমুদ আফগানিস্তানে এতিম, বিধবার মাঝে সাড়ে ১২ বিলিয়ন আফগানি বিতরণ কারাগারে বন্দিদের জন্য আসছে ভিডিও কলে কথা বলার সুযোগ প্রশান্ত মহাসাগরীয় ফোরামে চীনের কূটনীতির নিন্দা তাইওয়ানের শাহজালালে কর্মীদের বিরুদ্ধে যাত্রী হয়রানি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ কিনেমাস্টার বাংলাদেশিদের জন্য ওয়াটারমার্ক ছাড়া ব্যবহারের সুযোগ রূপপুর থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ যুক্ত করতে ভারনোভার চুক্তি ভারত-ইরান বাণিজ্য চুক্তির গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হুঁশিয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম পরিচালক ছায়েদুর রহমানের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার গ্রেপ্তারের ক্ষমতা পাচ্ছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সড়ক নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ হাইকোর্টের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় নতুন ভাসমান এলএনজি স্থাপন: প্রধানমন্ত্রী কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের জন্য প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা ঢাকা–আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সেতু যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত আসিফ মাহমুদসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান শুরু তারেক রহমানের সঙ্গে শিগগিরই সাক্ষাতের আশা প্রকাশ ট্রাম্পের নতুন বেতন কাঠামোয় মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি রয়েছে: তথ্য উপদেষ্টা নবম পে স্কেলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীরাও আসছেন

নাব্য সংকটে ধুঁকছে খুলনার নদীবন্দর, কমছে জাহাজ ও পণ্য খালাস

ভাঙা ঘাট, জেটির অভাব ও ড্রেজিং সংকটে বিপর্যস্ত নদীকেন্দ্রিক অর্থনীতি
নিউজটি শুনুন
  • আপলোড সময় : ২৩-০৭-২০২৬ ১০:৪৪:০৬ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৩-০৭-২০২৬ ১০:৪৪:০৬ পূর্বাহ্ন
  • ২ মিনিট পড়ার সময়
  • ১০৬ বার পঠিত
নাব্য সংকটে ধুঁকছে খুলনার নদীবন্দর, কমছে জাহাজ ও পণ্য খালাস ছবি: সংগৃহীত

 

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র খুলনা নদীবন্দর ও নওয়াপাড়া নদীবন্দর ক্রমেই কার্যক্ষমতা হারাচ্ছে। নাব্য সংকট, ভাঙা ঘাট, নিরাপদ জেটির অভাব এবং দুর্বল অবকাঠামোর কারণে কমে গেছে জাহাজ আগমন ও পণ্য খালাস—যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও আঞ্চলিক অর্থনীতিতে।

 

মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ভৈরব নদীপথে সার, কয়লা, পাথরসহ বিভিন্ন পণ্য লাইটারেজ জাহাজে খুলনা ও নওয়াপাড়ায় আনা হয়। কিন্তু নদীর নাব্য কমে যাওয়ায় বড় জাহাজ নিরাপদে ভিড়তে পারছে না। অনেক ক্ষেত্রে জাহাজকে ১০–১৫ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে ঘাটের জন্য। ভাটার সময় পানির স্তর কমে গেলে জাহাজ আটকে পড়ার ঘটনাও ঘটছে।


খুলনা অঞ্চলের বিভিন্ন ঘাটে ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। কোথাও ঘাট ধসে পড়েছে, কোথাও জাহাজ ভেড়ানো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত জেটি ও ওপেন ইয়ার্ডের অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে। ফলে পণ্য খালাস প্রক্রিয়া ধীর হয়ে পড়ছে এবং পরিবহন ব্যয় বাড়ছে।

 

নৌ-পরিবহন সংশ্লিষ্টদের মতে, গত দুই বছরে জাহাজ আগমন ও পণ্য খালাস প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। এর পেছনে মোংলা সমুদ্রবন্দর-এ আমদানি কমে যাওয়াও একটি কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। এতে ব্যবসায়ীদের খরচ বেড়েছে এবং সময়ক্ষেপণের কারণে আর্থিক ঝুঁকিও বাড়ছে।

 

একসময় যেখানে দুই হাজারের বেশি শ্রমিক কাজ করতেন, এখন সেই সংখ্যা ৫০০-এর নিচে নেমে এসেছে। অনেক শ্রমিক কাজ না পেয়ে অন্য পেশায় চলে গেছেন। যারা আছেন, তাদেরও মাসের অর্ধেক সময় বেকার থাকতে হচ্ছে। এতে তাদের জীবিকা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

 

বিশেষজ্ঞ ও বন্দর ব্যবহারকারীরা বলছেন, দ্রুত ড্রেজিং, নিরাপদ জেটি নির্মাণ, ঘাট সংস্কার এবং আধুনিক কার্গো হ্যান্ডলিং ব্যবস্থা নিশ্চিত না করলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নদীর নাব্য উন্নয়ন ও অবকাঠামো আধুনিকায়নে বিভিন্ন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে বন্দরের সক্ষমতা বাড়বে।
 

সর্বশেষ অর্থবছরে খুলনা নদীবন্দর থেকে প্রায় সাড়ে ১২ কোটি টাকা এবং নওয়াপাড়া থেকে প্রায় ৪ কোটি ৭১ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করে বলছেন, অবকাঠামোগত দুর্বলতা দূর না হলে ভবিষ্যতে এই আয়ও কমে যেতে পারে।


নাব্য সংকট ও অব্যবস্থাপনার কারণে খুলনা অঞ্চলের নদীবন্দরগুলো ধীরে ধীরে কার্যক্ষমতা হারাচ্ছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে এর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।


নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-১৭

মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।