বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ৯০ ডলার ছাড়াল, হরমুজ সংকটে বাড়ছে উদ্বেগ
মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক উত্তেজনায় বৈশ্বিক তেলবাজারে নতুন অস্থিরতা
নিউজটি শুনুন
- আপলোড সময় : ২০-০৭-২০২৬ ০৯:৫৯:৩৯ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ২০-০৭-২০২৬ ০৯:৫৯:৩৯ পূর্বাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ১৬৭ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সামরিক সংঘাত তীব্র হওয়া এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে তেল পরিবহন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ৯০ ডলার অতিক্রম করেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই ক্রুডের দামও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-১৫
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার ২০ জুলাই আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ দশমিক ০৯ ডলার বেড়ে ৯০ দশমিক ১৯ ডলারে পৌঁছেছে, যা গত ১১ জুনের পর সর্বোচ্চ। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৭১ ডলার বা ২ দশমিক ০৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৪ দশমিক ২০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এটি ১২ জুনের পর সর্বোচ্চ মূল্য।
গত সপ্তাহেও তেলের বাজারে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা যায়। সে সময় ডব্লিউটিআইয়ের দাম ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ব্রেন্টের দাম ১৫ দশমিক ৯ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। বিশ্লেষকদের মতে, পারস্য উপসাগরে চলমান সামরিক উত্তেজনা এবং উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলার কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।
চলতি সপ্তাহের শেষ ভাগেও সংঘাত প্রশমিত হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। যুক্তরাষ্ট্র টানা নবম রাতের মতো ইরানে বিমান হামলা চালিয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র কুয়েত ও বাহরাইন নতুন করে ইরানি হামলার তথ্য জানিয়েছে।
আইএনজি ব্যাংকের বিশ্লেষকেরা এক গবেষণাপত্রে সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের ধারাবাহিক হামলা দুই পক্ষের জন্যই মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনছে। এই উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে না এলে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে বৃহত্তর সংঘাত ছড়িয়ে পড়তে পারে। অন্যদিকে বার্কলেসের বিশ্লেষক অমরপ্রীত সিংয়ের মতে, পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন বৈশ্বিক তেলের মজুদ থাকা সত্ত্বেও বাজার এখনো সম্ভাব্য ঝুঁকিকে পুরোপুরি মূল্যায়ন করছে না।
এদিকে ইরানের ইসলামি রিভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি দাবি করেছে, মার্কিন বাহিনীর প্ররোচনায় হরমুজ প্রণালির দক্ষিণ অংশের অনিরাপদ নৌপথ ব্যবহার করায় দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে বিস্ফোরণ ঘটে এবং সেগুলো অকেজো হয়ে পড়ে। তবে রয়টার্স এই দাবির স্বাধীন যাচাই করতে পারেনি।
একই সময়ে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশন্স বা ইউকেএমটিও জানিয়েছে, ওমানের কুমজারের উত্তর পশ্চিমে একটি জাহাজে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ গ্রুপের তথ্য অনুযায়ী, গত রোববার হরমুজ প্রণালি দিয়ে মাত্র চারটি জাহাজ চলাচল করেছে, যা আগের দিনের আটটি জাহাজের তুলনায় অর্ধেক। ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ এবং তেলের বাজার নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।