জরিপের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৭৮ শতাংশ মার্কিন নাগরিক এখন যেকোনো মূল্যে যুদ্ধ শেষ করার পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে এর অর্থ এই নয় যে তারা চুক্তিটিকে ইতিবাচকভাবে নিচ্ছেন। মাত্র ২২ শতাংশ নাগরিক মনে করেন এই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য লাভজনক হয়েছে, যেখানে বড় একটি অংশ একে ইরানের জন্য বেশি সুবিধাজনক বলে মনে করছেন। বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি স্থায়ীভাবে বন্ধ করার যে মূল লক্ষ্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন, সেখানে বড় ব্যর্থতা দেখছেন সাধারণ মানুষ। জরিপে অংশ নেওয়া ৬৯ শতাংশ মার্কিন এবং খোদ রিপাবলিকান দলের ৪৫ শতাংশ কর্মী মনে করেন, যুদ্ধ শেষ করার জন্য এই চুক্তি চূড়ান্ত করা হলেও তা ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা থামাতে পারবে না।
এদিকে মার্কিন নাগরিকদের বড় অংশই মনে করছে, যুদ্ধ শুরুর আগের চেয়ে ইরান এখন সামরিক ও কৌশলগতভাবে আরও শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। বিশেষ করে বিশ্ব অর্থনীতিকে ঝুঁকিতে ফেলে কৌশলগত হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ করে রাখার যে ক্ষমতা তেহরান দেখিয়েছে, তা তাদের অবস্থানকে বিশ্বমঞ্চে মজবুত করেছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৬৪ শতাংশ নাগরিক স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরান যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতিতে কতটা মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে, তা ট্রাম্প প্রশাসন শুরুতে বুঝতেই পারেনি এবং তারা সম্পূর্ণ অপ্রস্তুত ছিল। সিএনএনের পূর্ববর্তী প্রতিবেদনেও উঠে এসেছিল যে, ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করার মতো সাহস ও সক্ষমতা দেখাবে, তা শুরুতে খাটো করে দেখেছিল ওয়াশিংটন।
চার থেকে ছয় সপ্তাহের কথা বলে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ চার মাস ধরে টেনেহিঁচড়ে চলায় মার্কিন জনগণের মধ্যে তীব্র ক্লান্তি ও হতাশা তৈরি হয়েছে। কোনো বড় সাফল্য বা অর্জন ছাড়া এই দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ মার্কিনরা আর দেখতে চান না বলেই তারা একটি ত্রুটিপূর্ণ চুক্তিও মেনে নিতে বাধ্য হচ্ছেন। জরিপের চূড়ান্ত উপসংহারে দেখা গেছে, দুই-তৃতীয়াংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন ট্রাম্প প্রশাসন তাদের পূর্বঘোষিত সব লক্ষ্য পূরণ করতে পেরে এই চুক্তিতে পৌঁছায়নি, বরং তারা শুধু যেকোনো মূল্যে এই ঝামেলা ও সংঘাতের দ্রুত সমাপ্তি টানতে চাইছে।
ডেস্ক রিপোর্ট