বৃহস্পতিবার দেওয়া রায়ে ওয়াশিংটনে অবস্থিত ফেডারেল সার্কিট আপিল আদালত বলে, এই মামলা এখনো নিষ্পত্তি হয়নি, তবে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান শেষ পর্যন্ত সফল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে সরকার আপাতত ফেব্রুয়ারিতে আরোপ করা ১০ শতাংশ শুল্ক চালু রাখতে পারবে।
এই শুল্কটি আরোপ করা হয় গত ফেব্রুয়ারিতে, যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আগের বছর আরোপ করা আরও উচ্চহারের বৈশ্বিক শুল্ক বাতিল করার পর। সে সময় ট্রাম্প প্রায় সব দেশের ওপর দ্বিগুণ অঙ্কের শুল্ক বসিয়েছিলেন, যা আদালত খারিজ করে দেয়। পরে ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের ১২২ ধারা ব্যবহার করে নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্ক চালু করা হয়।
আইন অনুযায়ী, ১২২ ধারা প্রেসিডেন্টকে সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বৈশ্বিক শুল্ক ১৫০ দিনের জন্য আরোপ করার ক্ষমতা দেয়। এর বেশি সময় শুল্ক চালু রাখতে হলে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। তবে এই ধারাটি আগে কখনো আমদানি শুল্ক আরোপের জন্য ব্যবহৃত হয়নি।
এই আইনটির প্রয়োগ নিয়েই মূল বিরোধ। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি—অর্থাৎ আমদানি বেশি আর রপ্তানি কম থাকা—এই আইনের আওতায় পড়ে। কিন্তু সমালোচকরা বলছেন, আইনটি মূলত আন্তর্জাতিক অর্থপ্রদানের গুরুতর সংকটের জন্য প্রযোজ্য, সাধারণ বাণিজ্য ঘাটতির জন্য নয়।
গত মাসে নিউইয়র্কের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আদালতের তিন বিচারকের একটি বেঞ্চ ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়ের করা মামলায় রায় দেয়, এই শুল্ক আরোপ করে ট্রাম্প কংগ্রেসের দেওয়া ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন। আদালতের ২-১ ভোটে দেওয়া রায়ে বলা হয়, এই শুল্ক ‘অবৈধ’ এবং ‘আইনের অনুমোদনবিহীন’।
তবে আপিল আদালতের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি বড় আইনি স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত সরকার তাদের নীতি বহাল রাখতে পারবে।
এই শুল্কের মেয়াদ বর্তমানে ২৪ জুলাই পর্যন্ত নির্ধারিত রয়েছে। এরপর তা চালিয়ে যেতে হলে নতুন করে আইনগত অনুমোদন লাগতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই মামলাটি শুধু শুল্ক ইস্যু নয়—এটি যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্টের বাণিজ্য নীতিতে কতটুকু ক্ষমতা রয়েছে, সেটি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ একটি নজির হয়ে উঠতে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। আইনি এই লড়াই শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে গড়াতে পারে, যেখানে বিষয়টির স্থায়ী সমাধান নির্ধারিত হবে।
ডেস্ক রিপোর্ট