দীর্ঘ চার দিনের অচলাবস্থার পর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম আবার শুরু হয়েছে। শনিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনার পর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবনের তালা খুলে দেন। তবে তিন দফা দাবি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
রোববার ২৬ জুলাই থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দাপ্তরিক কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলছে। রাত ১০টার দিকে প্রশাসনের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চলমান তদন্ত ও জরুরি প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল রাখার স্বার্থে শিক্ষার্থীরা ভবনগুলোর তালা খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ করা তাদের উদ্দেশ্য নয়। তবে যৌন হয়রানির অভিযোগ এবং বিজয় ২৪ হলের ছাত্রীদের গোপনে ভিডিও ধারণের ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো শিক্ষার্থী ক্লাস বা পরীক্ষায় অংশ নেবেন না।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. সালাউদ্দীন জানান, ২২ জুলাই রাতে বিজয় ২৪ হলে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীরা প্রধান ফটকসহ প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন। পরে শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো নিয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয় এবং কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এর ধারাবাহিকতায় শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি ডিসিপ্লিনে বিভাগীয় প্রধানরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এসব সভায় যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবির প্রতি শিক্ষকরা সমর্থন জানান।
পরে বিকাল সাড়ে ৪টায় উপাচার্যের সভাপতিত্বে জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপাচার্য ছাড়াও উপউপাচার্য, ট্রেজারার, বিভিন্ন স্কুলের ডিন, ডিসিপ্লিন প্রধান, ছাত্রবিষয়ক পরিচালক, প্রভোস্টসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভা থেকে শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সংহতি জানানো হয়।
আলোচনার পর শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবনের তালা খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। একই সঙ্গে প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের দ্রুত ক্লাসে ফেরার আহ্বান জানানো হয় এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবিগুলো বাস্তবায়নের আশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
এর আগে দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ এবং বিজয় ২৪ হলের ক্যান্টিনকর্মীর বিরুদ্ধে ছাত্রীদের গোপনে ভিডিও ধারণের অভিযোগের বিচার দাবিতে শিক্ষার্থীরা অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস, পরীক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বর্জনের ঘোষণা দেন। প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় প্রত্যাশিত অগ্রগতি না হওয়ায় গত বৃহস্পতিবার প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন তারা।
শিক্ষার্থীদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, গোপনে ভিডিও ধারণের অভিযোগে অভিযুক্ত ক্যান্টিনকর্মী ইমাম হাসানের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা, দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট হল প্রভোস্ট বডিকে জবাবদিহির আওতায় আনা, যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত বাংলা ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক রুবেল আনছার ও অ্যাগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক রেজাউল ইসলামকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা এবং স্পন্দন ২৪ ক্লাবের নিবন্ধন বাতিল করা।
ডেস্ক রিপোর্ট