ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছে যে তারা জর্ডান ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তাদের মতে, এই হামলা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ও সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের প্রতিক্রিয়া হিসেবে পরিচালিত।
বুধবার ভোরে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, তারা দূরপাল্লার সলিড-ফুয়েল ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে জর্ডানের আল আজরাক ঘাঁটিতে আঘাত হেনেছে। তবে এ ঘটনার পর জর্ডানে বিমান হামলার কোনো সতর্ক সংকেত বা সাইরেন বাজার খবর পাওয়া যায়নি, যা হামলার বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইআরজিসির পাশাপাশি খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সামরিক সদর দপ্তরও কিছু মার্কিন ঘাঁটির ওপর হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। বিশেষ করে বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করা হয়েছে।
যদিও বাহরাইনের ওই ঘাঁটিতে ঠিক কতগুলো ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে বা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে কিনা—এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি, তবুও সংশ্লিষ্ট বিবৃতিগুলোতে হামলার ব্যাপারে দৃঢ় অবস্থান প্রকাশ করা হয়েছে।
খাতাম আল-আনবিয়া সদর দপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের দক্ষিণাঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর সাম্প্রতিক পদক্ষেপ—বিশেষত একটি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার ঘটনার প্রেক্ষাপটে—এই হামলা পরিচালিত হয়। এতে ইরানের সেনাবাহিনী ও বিপ্লবী গার্ড বাহিনী যৌথভাবে অংশ নেয় এবং অঞ্চলটির একাধিক মার্কিন ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
বিবৃতিতে আরও সতর্ক করা হয়, ভবিষ্যতে যদি যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আগ্রাসী পদক্ষেপ পুনরাবৃত্তি করে, তাহলে তার জবাবে আরও বিস্তৃত ও কঠোর হামলা চালানো হবে।
আইআরজিসি আলাদাভাবে জানিয়েছে, শত্রুপক্ষের কর্মকাণ্ডের প্রতিক্রিয়ায় বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। তবে এসব দাবির বিষয়ে এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি, এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেতে পারে বলে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা।
ডেস্ক রিপোর্ট