১৩ বছরেও শেষ হয়নি রানা প্লাজা মামলা: সাক্ষ্যগ্রহণে ধীরগতি, বিচার নিয়ে বাড়ছে অনিশ্চয়তা
- আপলোড সময় : ২৪-০৪-২০২৬ ১১:০১:৪৯ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ২৪-০৪-২০২৬ ১১:০১:৪৯ পূর্বাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ৮৫ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত
১৩ বছর পেরিয়ে গেলেও বহুল আলোচিত রানা প্লাজা ধসের মামলার বিচার এখনও সম্পন্ন হয়নি; মূলত সাক্ষ্যগ্রহণ প্রক্রিয়ায় ধীরগতির কারণে বিচারকাজ আটকে আছে। দীর্ঘসূত্রিতায় বিচার পাওয়া নিয়ে ভুক্তভোগী ও আইনজীবীদের মধ্যে বাড়ছে হতাশা ও অনিশ্চয়তা।
২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল ঢাকার সাভারে সংঘটিত রানা প্লাজা ধস দেশের ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ শিল্প দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচিত। এ ঘটনায় প্রাণ হারান ১,১৩৬ জন, আহত হন আরও হাজারো শ্রমিক। ঘটনার পর দেশের তৈরি পোশাক শিল্পে নিরাপত্তা ও শ্রমমান নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সংস্কার উদ্যোগ দেখা গেলেও বিচারিক অগ্রগতি সেই তুলনায় সীমিত রয়ে গেছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মোট চারটি মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে কেবল ইমারত নির্মাণ বিধিমালা লঙ্ঘনের একটি তুলনামূলক ছোট মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। অবহেলায় হত্যাসহ বাকি তিনটি মামলা এখনও বিচারিক পর্যায়েই রয়ে গেছে এবং উচ্চতর ধাপে অগ্রসর হতে পারেনি।
বিশেষ করে হত্যা মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ প্রক্রিয়া ধীরগতির অন্যতম কারণ হিসেবে সামনে এসেছে। মোট ৫৯৪ জন সাক্ষীর মধ্যে এখন পর্যন্ত মাত্র ১৪৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। আদালত পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করেছে ৩০ এপ্রিল। এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে ৪১ জন আসামির মধ্যে প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা ছাড়া অনেকে পলাতক বা জামিনে রয়েছেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা মনে করেন, এত বড় মানবিক বিপর্যয়ের মামলায় পূর্ববর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় গুরুত্ব ও অগ্রাধিকার দেয়া হয়নি। তাদের অভিযোগ, বিচার প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক প্রভাব ও সদিচ্ছার অভাব ছিল, যা মামলার অগ্রগতিকে ব্যাহত করেছে।
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরাও দ্রুত বিচার সম্পন্নের পক্ষে মত দিয়েছেন। তাদের মতে, অবশিষ্ট সাক্ষীদের দ্রুত হাজির করে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করা এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা জরুরি, যাতে মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির দিকে এগোয়।
আইনজীবীদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বর্তমান গতিতে বিচার প্রক্রিয়া চলতে থাকলে চলতি বছরের মধ্যে এ মামলার রায় ঘোষণার সম্ভাবনা খুবই কম। ফলে দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় থাকা ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর মধ্যে হতাশা আরও গভীর হচ্ছে।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।