শিশু একটু আইসক্রিম বা ঠান্ডা পানি খেলেই সর্দি-কাশি লেগে যায়—এমন ধারণা বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি পরিবারে প্রচলিত। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বিশ্বাস পুরোপুরি সঠিক নয়। শিশুর সর্দি-কাশির মূল কারণ ঠান্ডা খাবার নয়, বরং ভাইরাস সংক্রমণ।
শিশুরোগ চিকিৎসক নন্দিতা সাহা জানান, শিশুদের সাধারণ সর্দি ও কাশি মূলত বিভিন্ন ভাইরাসের কারণে হয়। এই জীবাণু বাতাসের মাধ্যমে বা আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশির সংস্পর্শে অত্যন্ত সহজে ছড়িয়ে পড়ে। আইসক্রিম বা ঠান্ডা পানীয় খেলেই যে সর্দি-কাশির ঝুঁকি বাড়ে, এমন কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখন পর্যন্ত নেই।
তাহলে এই ভুল ধারণা তৈরি হলো কীভাবে? চিকিৎসকের ব্যাখ্যা হলো, অনেক সময় শিশু ঠান্ডা কিছু খাওয়ার ঠিক পরেই সর্দি বা কাশির লক্ষণ দেখা দেয়। কিন্তু বাস্তবে ভাইরাস আগে থেকেই শরীরে প্রবেশ করেছিল, কেবল লক্ষণটা সেই মুহূর্তে প্রকাশ পায়। দুটি ঘটনার সময়গত মিল থাকায় মানুষ দুটির মধ্যে কার্যকারণ সম্পর্ক আছে বলে ধরে নেয়।
তবে ঠান্ডা খাবার সম্পূর্ণ নিরীহ, তা-ও নয়। আইসক্রিম বা ঠান্ডা পানীয় খেলে গলায় সাময়িক জ্বালা বা খুশখুশে অনুভূতি হতে পারে, যা দ্রুত সেরে যায়। কখনো পেটে সংক্রমণ বা পেটখারাপও হতে পারে। তবে এটি ভাইরাসজনিত সর্দি-কাশি নয়। ভাইরাস সংক্রমণের ক্ষেত্রে নাক দিয়ে পানি পড়া, বারবার কাশি, জ্বর ও ক্লান্তি একসঙ্গে দেখা দেয় এবং কয়েক দিন ধরে স্থায়ী হয়—এই লক্ষণগুলোই মূল সতর্কসংকেত।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুর সর্দি-কাশির জন্য কেবল খাবারকে দায়ী না করে সমস্যার আসল উৎস ভাইরাসের দিকে মনোযোগ দেওয়া জরুরি। সমাধান সেখানেই খুঁজতে হবে।